বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আব্দুল্লাহ-গালিব সৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলায় পাবনা ইগলস জয়ী পাবনায় আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ, বাধা দেয়ায় লাঞ্ছিত ৩ আইনজীবী চলনবিলে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো রোপণে ব্যস্ত ঈশ্বরদীতে শিশু হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন চলনবিলাঞ্চলে শীতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চাটমোহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে দুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচনী সংঘাতে এলাকাছাড়া পরিবারের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে পাবনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাবনায় পদ্মা নদীর বুকে সেই রাস্তা অপসারণ করলো প্রশাসন রূপপুর প্রকল্পে থামছে না চুরি, এবার ক্যাবল চুরি

গাড়ি চালক থেকে মাদরাসার প্রধান মুহতামিম!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার সুজানগরের সুলতান গেট এলাকার কাসেমুল উলুম মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং হাফিজিয়া মাদরাসার মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) হয়েছেন এক গাড়ি চালক আবু তালহা সুজন। শিক্ষা জীবনের শুরুতে কয়েক বছর মাদরাসারয় পড়ার সুবাদে বেশ পরিবর্তন করেই তিনি এ পদ পান তার খালুর বদৌলতে। তার খালু লোকমান মাষ্টার ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে দাবী এলাকাবাসীর। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষাগত সনদ নেই বলে স্বীকার করেছেন ওই মুহতামিম সুজন।

সুলতান গেট এলাকাবাসী জানান, এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে সাগরকান্দি এতিমখানা ও মাদরানা চালু করেন প্রায় বিশ বছর পূর্বে। ভালো ভাবেই চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী ওই মাদরাসার সভাপতি লোকমান হোসেন মাষ্টার নিজ ভায়রার ছেলে আবু তালহা সুজনকে মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) হিসেবে নিয়োগ দেন।

যে আবু তালহা সুজন জেনারেল লাইনে পড়–য়া এবং এক সময় গাড়ি চালক ছিলেন। হঠাৎ করে সেখানে নিয়োগ পাওয়ার আগে তার বেশ ভূষা পরিবর্তন করেন। এলাকায় পরিচিতি পান সুজন হুজুর হিসেবে। এই মাদরাসা ও এতিমখানার কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই এই সুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসী বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে আন্দোলন করতে থাকে, মুহতামিম পদে ভালো কোন হুজুরকে নিয়োগের দাবীতে তারা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিল। এই আন্দোলনকারীদের মুখ বন্ধ করতে পাশর্^বর্তী খলিলপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বকুলের শরনাপন্ন হন ওই সুজন হুজুর ও তার সমর্থকরা। বকুলের লোকজনকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ওই হুজুর মাদরাসার সামনের জায়গাতে দোকান করার ব্যবস্থা করে দেন। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ওই দোকানের খুটি ভেঙ্গে দিলে তারা গোলাম রসুল বকুলকে খবর দেয়। পরে বকুল বাহিনীর লোকজন সংঘবদ্ধ ভাবে এসে গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায়। এ সময় ওই বাহিনীর লোকজন খলিলপুর থেকে এসে ওই এলাকার রশিদ মোল্লার দোকান বাড়ি, জাফর মন্ডলের বাড়ি ঘরসহ বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। এতে কমপক্ষে ৭/৮ জন আহত হয়। পরে নিজেরাই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তাদের গুনকৃর্তন করে বিভিন্ন পোষ্ট দিতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এই গোলাম রসুল বকুলের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জলাশয় ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ওই মাদরাসা ও এতিমখানার মুহতামিম আবু তালহা সুজন বলেন, তার মাওলানা লাইনে পড়াশুনার কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই। তিনি দাবী করেন ঠাকুরগাও জেলার কালীগঞ্জ হাফিজিয়া মাদরাসায় কয়েক বছর পড়াশুনা করেন এবং কারীয়ানার উপর তার বিশেষ প্রশিক্ষন নেন। তবে তিনি গাড়ি ব্যবসা ও বগুড়া রুটে গাড়ি চালানোর কথা স্বীকার করেন। পরে তার খালু তাকে জোর করে মাদরাসার পরিচালনার জন্য প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। গাড়ি চালানো বাদ দিয়ে হুজুর হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনিও ইচ্ছে করলে হুজুর হতে পারবেন। মাদরাসা থেকে কত বেতন নেন সম্মানী হিসেবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোন বেতন ভাতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করি। তাহলে পরিবার পরিজন নিয়ে চলেন কি করে জানতে চাইলে তিনি কবিরাজী করে উপার্জিত টাকায় চলার কথা স্বীকার করেন। তার নিয়োগের সময় কারা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি তার খালু লোকমান মাষ্টারের কথা বলেন। পরে ওই মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি লোকমান হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, সে ফোন ব্যবহার করেন না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!