বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাবনা সুগার মিল বন্ধের প্রতিবাদে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ২৯তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২২তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত সাঁথিয়ায় ৩ বারের মেয়রকে বাদ দিয়ে প্রার্থীর তালিকা বিনামূল্যে পেঁয়াজ ও রসুন বীজ বিতরণ পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ফখরুল ইসলাম আর নেই চাটমোহর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আ’লীগ-বিএনপিসহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা ব্রিজ ভাঙ্গা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে সংবর্ধনা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি অব্যাহত ভুমি অফিস ভবনের স্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি অনশন ও মানববন্ধন

হত্যা মামলা তদন্তে গাফিলতি, পুলিশের মহা-পরিদর্শক বরাবর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
Pabnamail24

পাবনায় হত্যা মামলার তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে আমিনপুর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের অবহেলা এবং প্রত্যক্ষ ইন্ধনে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের দাবী যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলার কার্যক্রম চলছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, আমিনপুর থানার আহম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণচর গ্রামের মাছেম মীরের সঙ্গে জমি নিয়ে একই গ্রামের তোফাজ্জল খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তোফাজ্জল সহযোগীদের সাথে নিয়ে মাছেম মীরকে পেটাতে শুরু করেন। এতে গুরুতর আহত মাছেম মীর (৫৫) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যান। মাছেম মীরকে হত্যার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তোফাজ্জল, গোলাপী ও তানিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে রাতে এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হাসেম মীর বাদী হয়ে আটক তিনজনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তবে পুলিশ আটককৃতদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে পরদিন (১৬ নভেম্বর) ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করেন। মামলার নথি পর্যালোচনায় পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, পুলিশের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও অবহেলার কারণেই আসামীরা মাছেম মীরকে হত্যার সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। নিহতের ভাতিজা ফারুক মীর বলেন, আমার চাচার হত্যাকারী তোফাজ্জল খানের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ১৫ নভেম্বর সকালে আমার পিতা শুকুর মীর ও ভগ্নিপতি বাচ্চু শেখকে পুলিশ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পুলিশের অপর একটি দল আমাদের বাড়িতে এলে ভয়ে আমরা পালানোর চেষ্টা করি। এই সুযোগে তোফাজ্জল দলবল নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার চাচা মাছেম মীরকে পিটিয়ে হত্যা করে।

নিহতের বড় ভাই হাসেম মীর জানান, ঘটনার দিন রাতেই থানায় এজাহার দায়ের করলেও পরদিন মামলাটি রুজু হয়। হত্যাকান্ডের পর হাতেনাতে প্রতিবেশীরা তোফাজ্জল, গোলাপী ও তানিয়াকে আটক করে পুলিশে দিলেও অজ্ঞাত কারনে পুলিশ তাদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার না দেখিয়ে সময় ক্ষেপন করছেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুরতহাল রিপোর্টে তা উল্লেখ করেনি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মাছেম মীর কিভাবে মারা গেছেন, তা আমরা নিশ্চিত নই। ময়না তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়ায় আসামীদের হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই নিহতের ভাইসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তোফাজ্জল ও তার লোকজনের হামলার ঘটনার সাথে এই গ্রেফতারের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে মামলাটি তদন্ত করছে।

অন্য মামলায় আটক থাকলেও হত্যা মামলার এজাহার নামীয় হলে আসামীকে অবশ্যই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলে মত দিয়েছেন একাধিক আইনজীবী।

পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত হত্যা মামলা রুজু হলে এজাহারে নামীয় আসামীদের সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা প্রচলিত আইন পরিপন্থী। ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রাপ্তির অপেক্ষায় মামলার আসামী গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রম থেমে থাকতে পারে না। এটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং আইনের সুস্পষ্ট লংঘন বলেও দাবী তার।

এদিকে, হত্যাকারীদের সাথে পুলিশের যোগসাজসের অভিযোগ এনে ন্যায় বিচার ও সুষ্ঠ তদন্তের দাবীতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন নিহতের পরিবার।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!