মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাবনা পৌর আ.লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত চাটমোহরে ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ক্রেতার সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নির্মাণাধীন চুল্লী থেকে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত মুক্তিযোদ্ধা ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে বোমা হামলা, গুলিবির্ষণ, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ পাবনায় ইয়াবাসহ কথিত ছাত্রলীগ নেতা আটক ভাঙ্গুড়ায় এক কিশোর হত্যাচেষ্টা মামলায় দুইবন্ধু গ্রেপ্তার সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক’র বিরুদ্ধে থানায় মামলা জেলা আ.লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা, সাবেক এমপি আরজু’র কর্মকান্ডে অসন্তোষ ফরিদপুরে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সাব-মারসিবল বিক্রির অভিযোগ সাবেক এমপি আরজুর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকীর অভিযোগ

সাঁথিয়ায় শশী বাহিনীর তান্ডবে ৪৭ পরিবারের মানুষ বাড়ী ছাড়া, কোটি টাকার জিনিসপত্র লুটপাট

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
Pabnamail24

পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দয়ারামপুর গ্রামের ৪৭টি পরিবারের অন্তত দুই‘শ মানুষ গত ৬ মাস ধরে বাড়ী ঘর ছাড়া। তারা কেউ বা শশুড় বাড়ী, আবার কেউবা মামা বাড়ী খালার বাড়ী অথবা বাধে আশ্রয় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। নিজের বাড়ী ঘর থাকতেও তারা পরবাসী। সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ী ফিরতে পারছেনা। এদিকে সন্ত্রাসী গ্রুপ ঐ সব বাড়ী ঘরের গরু ছাগল, পেয়াজ, রসুন, পাট, ধান, চাল, বাড়ীর আসবাবপত্র, টিনের চাল, নগদ টাকা, মোবাইল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, সোনার গহনাসহ অন্তত ৫ কোটি টাকা মুল্যের সকল জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়েছে। এ ছাড়া বাড়ী ছাড়া মানুষজনের অন্তত ২‘শ বিঘা জমি এখন চাষবাস করছে সন্ত্রাসী গ্রুপ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে সন্ত্রাসীরা বাড়ীর টাইলস, বেসিন, টিউবওয়েল, বৈদ্যুতিক তার ও টিনের ঘরের চালও খুলে নিয়ে গেছে। তবে সবে চেয়ে আশ্চর্য্যের বিষয় এ ব্যাপারে সাঁিথয়া পুলিশকে বার বার অভিযোগ দিলেও তারা উল্টো লুটপাটকারীদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগিরা জানান, সাঁিথয়া উপজেলার ধোপাদহ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দয়ারামপুর গ্রামের সর্বহারা পার্টির সাবেক নেতা মোশারফ হোসেনের ছেলে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এনামুল কবীর শশীর সঙ্গে একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের তাজমুল মেম্বরের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। শশী এলাকার বেকার যুবকদের চাকুরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা নেয়। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা চলছিল। এর আগে শিক্ষক নিয়োগের সময় প্রশ্নপত্র জাল করার অভিযোগে গ্রেফতার হন শশী। এই টাকার ব্যাপারে তাজমুল মেম্বর কয়েক দফা শালিশ বিচার কওে, যা শশীর বিপক্ষে যায়।

এই নিয়ে তাদের মধ্যে আরও বিরোধ বেড়ে যায়। সেই বিরোধের জের ধরে চলতি বছরের ২৫ মার্চ শশীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাজমুল মেম্ম¦রের বড় ভাই নাজমুলকে হাতুরি ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারপিট করে এবং একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। পরে মৃত্যু হয়েছে মনে করে অচেতন অবস্থায় নাজমুলকে ফেলে চলে যায়। পরবর্তিতে এ ঘটনা জানাজানি হলে তাজমুল মেম্বরের লোকজন একত্রিত হয়ে নাজমুলকে উদ্ধার করতে যায়। এ সময় শশী তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। আশপাশের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শশী, আছির, খোয়াজ, রাফি, আক্তার, বাইশবাবু, সিহাব, হাশু, টিপু, রঞ্জু, জসিম, সবুজ, সুমন, রাজা, নাজির, জাফর, আক্কাস, শের আলী, মোশারোফ হোসেন, আমির হামজা, সজল, ফরিদ, ও ফরহাদকে ধাওয়া করে। এ সময় মৃত এলবাজ প্রামানিকের ছেলে নাজির হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী আরও জানায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এবং মামলাতে জিততে শশী ও তার ভাবী মিলে তাদের বাড়ী নিয়ে নাজিরের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

নাজির হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী বৈশাখী খাতুন বাদী হয়ে তাজমুল মেম্বর, নাজমুল, ফরদাহসহ ২৯ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করে। এর পর পরই শুরু হয় শশী বাহিনীর তান্ডব। শশী বাহিনী দয়ারামপুর গ্রামে অন্তত ৪৭টি বাড়ীতে লুটপাট ও তান্ডব চালিয়ে শ্মসান বানিয়ে ফেলে। ফলে সকল সম্পদ ও বাড়ীঘর ফেলে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায় এ সব লোকজন। এ ঘটনায় পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে। তাদের অনেকেই আদালত থেকে জামিন পেলেও নিজ বাড়ীতে ফিরতে পারছেনা।

দয়ারামপুর গ্রামের আব্দুর রহমান (৯৯), মো. হাছেন (৭০), সিদ্দিক, আলহাজ, আকব্বর আলী, খোকন, খোকা, মঞ্জু, ইমদাদুল, আয়নাল, আজিত, খোকন, এনাই, রতন, গাজী, কামরুল, ইদ্রিস, বাবলু, খাজেম, ফিরোজ, ফরহাদ, সাহেদুল, আলাউদ্দিন, ফরিদ, জবেদ, গুলজার হাজী, মোজাম্মেল, ছকের, করিম, ইব্রাহিম, ইজ্জাহাত, মিরাই, লাল, জুলমত, জয়েন, সেলিম, আনারুল, দিরাজ, রাজ্জাক, ঝন্টু, শওকত, রবিউল, মান্নান মাষ্টার, মতিন, ঠান্ডু ও রাহেলার বাড়ী ঘর এখন নিস্তব্ধ। লুটপাট ও তান্ডবে বাড়ী ঘরে এখন কিছুই নেই।

দয়ারামপুর গ্রামের শত বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান বলেন, নাজির মরার পর শশী বাহিনীর লোকজন তার বাড়ীর সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এমনকি বাথরুমের দরজা জানালা, বেসিন ট্যাপ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।
একই গ্রামের হাজেরা খাতুন ৯৫) বলেন, পুলিশ সাথে নিয়া আইসা আমাগোর গরু ছাগল নিয়া গেছে।

Pabnamail24

দয়ারামপুর থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বর্তমানে হলুদঘর গ্রামে বসবাস করা আব্দুল আজিজজের স্ত্রী স্বপ্না খাতুন বলেন, এতদিন বাপের বাড়ী ছিলাম। ৬ জনের সংসারে কতদিন আরেকজনের সংসারে বোঝা হয়ে থাকা যায়। আমরা এখন তারা বাড়ী ফিরবার চাই।
একই গ্রামের ইজহারের স্ত্রী ডালিম খাতুন বলেন, তার স্বামী অসুস্থ তাকে নিয়ে আর কতদিন পালিয়ে বেড়ানো যায়। যেভাবেই হোক আমরা বাড়ী ফিরতে চাই। একই এলাকায় অবস্থান করা ফাতেমা খাতুন বলেন, তার মেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে। শশীর লোকজন এমনভাবে বাড়ীঘর লুট করেছে যে সেখানে বই পুস্তক পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এখন মেয়ের কলেজ খুললে বাড়ীতে না ফিরতে পারলে তার পড়াশুনার খুব ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এনামুল কবীর শশী সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যে।

সাঁিথয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিফ মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। আমরা খুব শিগগির জানিপ্রাপ্তদের বাড়ীতে উঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম বলেন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সাঁিথয়া পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *