বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৯ অপরাহ্ন

যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে কৃষককে অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০
Pabnamail24

বিলের পানিতে মাছ ধরায় পাবনার সাঁথিয়ায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে এক কৃষককে অপহরণ করে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের আভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও, মামলা নেয়নি পুলিশ। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে গ্রামের বাইরে আসতেই ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

সরেজমিনে সাঁথিয়া উপজেলার হাঁড়িয়াকাহন গ্রামের সোনাই বিলে গিয়ে দেখা যায় বর্ষার পানিতে যুবে আছে বিলের মাঠ। স্থানীয়রা জানান, কৃষিপ্রধান এ গ্রামে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ আর বর্ষায় পানিতে নিমজ্জিত হলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন গ্রামবাসীরা। তবে, গত কয়েক বছর ধরে শান্ত, সুনিবিড় গ্রামটির দরিদ্রচাষীদের মনে শান্তি নেই। মৎসজীবী কালিপদ হালদারের নামে ইজারা নেয়া বিল উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম টুটুল দখলে নেয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। নিজ মালিকানা জমিতে মাছ ধরলেও টুটুল বাহিনীর রোষানলে পড়তে হয় তাদের।

হাড়িয়াকাহন গ্রামের কৃষক মোঃ মনসুর আলী বলেন, বন্যার পানির কারণে আমরা গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে আমাদের জমিতে চাষ করতে পারি না। এখন বন্যার পানি মাঠ থেকে নেমে আসছে, তাই আমরা মাঠে মাছ ধরার জন্য জাল পেতেছিলাম। কিন্তু যুবলীগের লোকেরা জলাশয়টি দখলে নেয়ার কারণে মাছ ধরতে বাধা দেয় । তিনি বলেন, আমরা খাওয়ার জন্য কেবল তাদের চোখ এড়িয়ে মাছ ধরছি তবে বিক্রি করার জন্য মাছ ধরতে পারছি না।
গ্রামের বাসিন্দা ও বিলের জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাছ ধরতে গেলেই টুটুলের শ্যালক বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমাদের জাল নষ্ট করে দেয়। তাদের হুমকির কারণে আমরা নিজস্ব জমিতে যাওয়ারও সাহস পাই না।

সম্প্রতি, টুটুলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিজের জমিতে মাছ ধরেন কৃষক মাসুদ হোসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টুটুলের সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্রের মুখে সাঁথিয়া হাট থেকে মাসুদকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাতভর নির্যাতনের বাজারে ফেলে দিয়ে যায়। ভোরে গুরুতর অবস্থায় মাসুদকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় সাঁথিয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে তালবাহানা করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগী মাসুদ বলেন, গত ১৯ অক্টোবর সাঁথিয়া সদরের সাঁথিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে চককোনাবাড়িয়া গ্রামের ফজর আলী কসাইয়ের ছেলে আজিজল, নন্দনপুরের বক্কার পীরের ছেলে আশরাফুল আলম ও বাবুল হোসেন, তেথুলিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান, আব্দুল মতিনের ছেলে শাকিল হোসেন আমাকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যায় নন্দনপুরের সাইফুল ইসলামের বসত বাড়ির উত্তর পাশের আশরাফুল আলমের ডিশ লাইন অফিস ঘরের মধ্যে। আশরাফুলের নির্দেশে তারা মারপিট করে আমার কাছ থেকে ৫৭ হাজার ২’শ টাকা কেড়ে নেয় এবং ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারপিট করে। এরপর সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি টুটুলের তেঁথুলিয়া গ্রমের বাড়িতে নিয়ে টুটুলসহ সবাই মিলে মারপিট করে।

মাসুদ রানা আরো বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি হই। কিছুটা সুস্থ হলে ভাই মিল্টনের সাথে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করে বার বার ঘুরাচ্ছে পুলিশ।
তবে, যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম টুটুল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নন্দনপুর গ্রামের কালীপদ হালদার, সুনীল হালদার এবং গ্রামের কয়েকজন জেলে জলাশয়ের খালটি ইজারা নিয়ে নেয়। আমি গ্রামবাসীকে বাধা দিচ্ছি না। “মাসুদ রানাকে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে টুটুল বলেন, আমি কাউকে অপহরণ কিংবা নির্যাতন করিনি। বরং, যারা তুলে এনেছিল তাদের বুঝিয়ে মাসুদকে উদ্ধার করেছি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি লিখিত অভিযোগ হিসেবে পেয়েছি। এ ব্যপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগ আমলে নিতে আমরা কোন গাফিলতি করিনি।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ বলেন, কারো নিজস্ব জমিতে মাছ ধরতে বাধা দেয়া বেআইনী। আধিপত্যের জোরে সোনাই বিলে একটি মহল এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে শুনেছি। আমার কাছে কোন পক্ষই অভিযোগ নিয়ে আসে নি। তবে, স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু মহোদয় উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি।

উল্লেখ্য, সাঁথিয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল আলম টুটুলের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজি, সরকারি জমি দখল, বাড়ী দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকুর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!