শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন পাবনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপেলক্ষ্যে মর্জিনা লতিফ ট্রাস্টের বস্ত্র বিতরণ একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন পাবনায় ভাইয়ের দায়ের কোপে প্রাণ গেল ইসলামী আন্দোলনের নেতার ঈশ্বরদীতে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আবারও ডেঙ্গু আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু ফরিদপুরে মন্দিরের জায়গা দখল করে মেয়রের কোটি টাকার বাণিজ্য মেলা! উৎসবমুখর পরিবেশে পাবিপ্রবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন প্রতারণার অভিযোগ, সুজানগরে আ. লীগের নেতা উজ্জ্বলকে অবরুদ্ধ করে টাকা ফেরতের দাবী ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না!

নতুন আহবায়ক কমিটিতেও অসন্তোষ কাটেনি পাবনা জেলা বিএনপির

বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২
Pabnamail24

দলের দূর্দিনে বার বার আহবায়ক কমিটি করেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি পাবনা জেলা বিএনপি। দীর্ঘদিন সম্মেলন না করে, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ণ ছাড়াই তিনবার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র অভিযোগ নেতাকর্মীদের। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীতেও তেমন প্রভাব ফেলতে পারছে না পাবনা জেলা বিএনপি।
জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে তিন মাসের জন্য গঠন করা আহ্বায়ক কমিটি চলে আড়াই বছর। সে কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন হাবিবুর রহমান। তাদের উপর দ্বায়িত্ব ছিলো জেলার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন এর নতুন করে কমিটি গঠন করে দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জিবিত করা। নেতা-কর্মীদের অভিযোগ প্রতিটি উপজেলায় কোন্দল গ্রুপিং বাড়ালেও কাজের কাজ কিছুই করতে পারে নাই আহব্বায়ক কমিটি।
দ্বায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে আগের কমিটি ভেঙে গত এপ্রিল মাসে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে আবারও ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘ জটিলতার পর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এ কমিটির তালিকা গত ২২ আগস্ট পাবনায় পৌঁছে। সর্বশেষ আহব্বায়ক কমিটির কারণে অধিকাংশ নেতা কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ-বিভেদ দেখা দিয়েছে। অনেক নেতা কর্মী রাজনীতি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন।
২০১৯ সালে তিন মাসের জন্য গঠন করা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি এরই মধ্যে দায়িত্ব পালন করেছে আড়াই বছর। এ সময়ের মধ্যে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভায় হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিদ্দিক নতুন কমিটি গঠন করেছিলেন। মাত্র এক বছরের মাথায় নবগঠিত ৯টি কমিটিই আবার বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি।
পাবনা জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও সাবেক সহসভাপতি মাসুদ খন্দকারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলের তৃনমূল পর্যন্ত।
জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি জেলা বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়। উল্লেখ্য পাবনা জেলা বিএনপি গঠন কাল সেই ১৯৭৯ সাল থেকেই গ্র হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ জুলাই কেন্দ্রীয় বিএনপি জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ভেঙে ৪৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান আহ্বায়ক ও সিদ্দিকুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়।
তখনকার আহ্বায়ক কমিটি সে সময় জেলার ১৮ ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হন। যে ২/৩টি উপজেলায় কমিটি গঠন করেছিল, সেই কমিটিকে তখন মেনে নেয় নাই দলের বেশীরভাগ নেতাকর্মী। আহব্বায়ক কমিটির অদক্ষতায় বহুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
এরপরও প্রায় আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করে তিন মাসের জন্য গঠন করা এ আহ্বায়ক কমিটি। নানা অভিযোগ উঠতে থাকে কমিটির বিরুদ্ধে। গত এপ্রিল মাসে ৪৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দিয়ে ৬ সদস্যের ছোট নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এবার আবার ৬ সদস্যের কমিটি ভেঙে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলো। নবগঠিত এ কমিটিতে আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, শেখ তুহিন ও নূর মোহাম্মদ মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।
এ দিকে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনেও কোন্দল কাটেনি বিএনপির। দলের নির্যাতিত, ত্যাগী নেতাদের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন পদ বঞ্চিতরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির বঞ্চিত এক নেতা বলেন, যাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে,তার বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক মামলা হয়নি,কখনও সে রাজপথে কোন আন্দোলনে ছিলেন না এবং এই আহবায়ক কমিটিতে যাদের সদস্য করা হয়েছে,তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির যুক্ত নন।
পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাবনা -৪ আসনের সাবেক সিরাজুল ইসলাম সরদার এমপি বলেন, আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বহন করা হল ঈশ্বরদী ট্রেন হামলা মামলার প্রথম সাক্ষী হাবিবুর রহমান হাবিব, ৪৭ জন আসামীর ১০ মৃত্যু দন্ড, বাদী বাকি যাবত জীবন, ১০ বছরের জেলা, এই জন্য পুরো ঈশ্বরদীর নেতা কর্মীদের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা বলতে কিছুই নেই। এবং চলমান আন্দোলনে যে প্রতি উপজেলা পর্যায়ে প্রোগ্রাম গুলো হয়েছে প্রতি উপজেলা পৌর মিলে ২ থেকে ৩ হাজারের বেশি কোথাও লোক হয় নাই, তাএ আবার এই ২/৩ হাজার লোক একই উপজেলারই সব উপজেলায় নিয়ে গিয়ে হাবিব, মাসুদ প্রোগ্রাম করেছে। স্থানীয় নেতা কর্মী এবং সাধারণ জনগণ কেউ তাদের ডাকে সারা দেয় নাই। যেখানে প্রতি উপজেলার স্থানীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণ কে সম্পৃক্ত করে ১০ থেকে ১৫ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে প্রোগ্রাম করা সম্ভব শুধু মাত্র হাবিব,মসুদ এর তৃনমুল পর্যায়ের মানুষদের সম্পৃক্ততা না থাকাই আজ দল সর্বোচ্চ ক্ষতির সম্মুখীন ।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সর্বশেষ বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, একজন প্রমানিত ব্যর্থ নেতাকে নিয়ে জেলা বিএনপিতে বারবার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। গত তিন বছরে তিনি বিএনপির জন্য কিছুই করতে পারেননি। দল গোছানোর পরিবর্তে বিএনপিকে দু-তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন। আবারও তাঁকেই আহ্বায়ক করা দলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে গেল।
তবে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পাবনা জেলা ‘বিএনপিতে কোনো ভাগ নেই। নেতা-কর্মীরা একসঙ্গে ছিলেন, একসঙ্গেই আছেন। মূলত করোনার কারণে আমরা আগের মেয়াদে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারিনি। নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর আমরা আবার সে প্রক্রিয়অ শুরু করেছি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে প্রতিটি কর্মসূচীই সফল হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সবাইকেই মূল্যায়ন করা হবে। আশা করছি, খুব শিগগিরই কমিটি গঠন শেষ হবে।’

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!