শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আটঘরিয়ায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলা, যুবলীগ নেতাসহ আটক ৪ ঘরের মধ্যে র‌্যালী, পাবনায় আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধি দিবস উদযাপনের নামে তামাশা! পাবনায় আর্ন্তজাতিক প্রতিবন্ধি দিবস পালিত ঈশ্বরদীতে গাড়ির ধাক্কায় এক কাজাকিস্তান নাগরিক নিহত ঢালারচরে বিতর্কিত ও চাল চুরির অপরাধসহ নানা অপকর্মে নৌকার মাঝি পরিবর্তন সুজানগরে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যূত হওয়ার ৬ ঘন্টা পর লাইন সচল, ধীরগতিতে উদ্ধারে ক্ষোভ যাত্রীদের চাটমোহর খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন ভাঙ্গুড়ায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যূত, ঢাকার সাথে উত্তর দক্ষিনের ট্রেন চলাচল বন্ধ পুন্ডুরিয়া উদয়ন সংঘের ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

ধর্ষণ, ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় মিমাংসার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় শ্বশুড়ের বিরুদ্ধে পুত্রবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি আইনগত সহায়তার নামে শালিসী বৈঠকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় মিমাংসা করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ছাত্রলীগ নেতাসহ প্রভাবশালীরা।

এক সপ্তাহ আগে শালিসী বৈঠক হলেও গত পরশু (২২ নভেম্বর) জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক টুকুন, গ্রামের প্রভাবশালী মহুরী শের মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুমন আহমেদ, সাবেক ইউপি সদস্য সামাদ আলী, ইদ্রিস আলীসহ বেশ কয়েকজন।

পুত্রবধুকে ধর্ষণকারী আবুল কালাম (৫২) ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ গ্রামের মৃত বাহাদুর আলীর ছেলে। ধর্ষণের শিকার পুত্রবধু তারই ছেলে ফিরোজের স্ত্রী এবং বাবার বাড়ি একই উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯ বছরের ওই পুত্রবধু অল্প বয়সেই বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে নানীর বাড়িতে থেকে মানুষ হয়। চলতি বছরের শুরুতেই আবুল কালামের ছেলে ফিরোজের সাথে মোটা টাকা যৌতুকে বিয়ে হয়। ফিরোজের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখায় দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। ইতোমধ্যে কাজের সন্ধানে ঢাকা চলে যায় ফিরোজ। ছেলে চলে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শ^শুড় আবুল কালাম পুত্রবধুকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গেল মাসে তার পুত্রবধু নানীর বাড়িতে বেড়াতে যায়। তার কয়েকদিনের মাথায় শ^শুড় পুত্রবধুকে আনার জন্য ওই বাড়িতে যায়। রাতের বাড়ি নিয়ে আসার পথে আবারও পুত্রবধুকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হলে ক্ষোভে বাড়ি নিয়ে আসে। গভীররাতে শ^শুড় জোরপূর্বক ঘরের দরজা খুলে নিয়ে ঘরের মধ্যে পুত্রবধুকে ধর্ষন করে। বিষয়টি তার শ^াশুড়ি ফিরোজা বেগম জানতে পেরে ছুঁটে এসে পুত্রবধুকে ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য নিষেধ করে। এমনকি তাকে জানে মেরে দেওয়ার হুমকিও দেয়া হয়। ইতোমধ্যে শ^াশুড়ি কৌশলে বাচ্চা না আসে সে জন্য কথিত কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করায়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কৌশলে শ^াশুড়ি ফিরোজা পুত্রবধুকে সাথে নিয়ে ভাঙ্গুড়ার বড়াল রেলব্রীজের কাছে টিকিট কেটে দিয়ে ফেলে আসে। পরে অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ঘটনা নানীর বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে দেয় ওই পুত্রবধু।

জানা যায়, শাশুড়ি ফিরোজা বেগম ঘটনা না জানাতে পুত্রবধুর নানীর বাড়িতে আসলে বাড়ির লোকজন তাকে আটকে রাখে। ঘটনা বেগতিক ভেবে ফিরোজা বেগম তার ভাই সাবেদুল ইসলামকে জানালে তিনি গ্রামের প্রভাবশালী শের মাহমুদ, বক্কার হোসেন, সামাদ ও ইদ্রিসসহ বেশ কিছু লোকজ সাথে করে ওই বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শালিসী বৈঠকের চাপে অভিযুক্ত শ্বশুড় আবুল কালামকে হাজির করা হয়। গ্রামের মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়লে কৌশলে কালাম পালিয়ে যায়। এ সময় কালামকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক টুকুন বলেন, আমি শালিসে উপস্থিত হয়ে ঐ গৃহবধুর পরিবারকে আইনি সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেই। কিন্ত তারা দুই পক্ষই শালিস চাইলে তা শেষ করা হয়। ঐ ঘটনা শেষ করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আর কিছু বলার নেই।

ধর্ষণের অভিযুক্ত আবুল কালামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রথমে শালিসে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করে। কিন্তু আমার দেয়ার সামর্থ না থাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুমন আহমেদকে জরিমানা কমিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করি। পরে সে কথা বলে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা করেছে। ইতোমধ্যে তার কাছে আমি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা বাড়ি বিক্রি করে পরিশোধ করবো।

গ্রামের প্রভাবশালী শের মাহমুদ বলেন, অভিযুক্ত আবুল কালাম আমার প্রতিবেশি হওয়ায় তার ডাকে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শালিস করা হয়েছে।

আর শালিসী বৈঠক, জরিমানা নির্ধারণ ও জরিমানার টাকা গ্রহণের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগ নেতা সুমন আহমেদ বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়সাল বিন আহসান বলেন, এ ধরণের কোন ঘটনার খবর বা অভিযোগ থানায় আসেনি। যদি অভিযোগ পাই তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!