শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১০:১৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

ভাঙ্গুড়ায় রেলের জমিতে অবৈধ দ্বিতল ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রেলের জমি অস্থায়ীভাবে লিজ নিয়ে অন্তত ১৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে এক মাস আগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে রেল পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি মামলাও করেনি। ফলে দখলদাররা ভবন নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া শহরের মধ্যে সরকারি খাদ্যগুদামে রেল যোগাযোগের জন্য ব্রিটিশ আমলে তিন লেন বিশিষ্ট দেড় কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হয়। এই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করত। এ কারণে শহরের খাল, চাষযোগ্য জমিসহ শতাধিক বিঘা জমি রয়েছে রেলওয়ের। কিন্তু দুই যুগ আগে এই রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রভাবশালীরা রেলের জমি দখল করতে শুরু করেন। প্রথমে দখলদাররা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেন। অনেকে দখলের পরে এসব জায়গা প্রভাবশালীরা সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসব জমি লিজ নিয়ে টিনশেড পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এ অবস্থায় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রশাসনের অভিযানে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রেলের জমিতে শুরু হয় অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ। বর্তমানে রেল কর্মকর্তাদের অসততা ও দায়িত্বহীনতায় বহুতল ভবন নির্মাণ বহুগুণে বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফার্মেসি মালিক আব্দুল হামিদ, দন্ত চিকিৎসক আসাদুজ্জামান, ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান, আশরাফ আলী ও মকবুল হোসেন বহুতল ভবনের আরসিসি ভিত দিয়ে দোতলা ভবন নির্মাণ করছেন।

এ ছাড়া শহরের শরত্নগর বাজারে ব্যবসায়ী শাহিন আলম ও আব্দুল বারী বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। সবাই দোতলার কাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে এ ধরনের অন্তত ১৫টি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এসব ভবন নির্মাণকাজ বন্ধ করতে পাকশী রেলওয়ে অফিসের কানুনগো আব্দুল কাদেরসহ তিন কর্মকর্তা এক মাস আগে উল্লাপাড়া রেলওয়ে থানায় ছয়-সাতজন দখলদারের বিরুদ্ধে মামলার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ভবন নির্মাণ বন্ধে উল্লাপাড়া রেলওয়ে থানা ও কর্মকর্তারা পরে এ বিষয়ে আর পদক্ষেপ নেননি।

অথচ রেলওয়ের সূত্র মতে, রেলের খাল ভরাট অথবা রেলের জমিতে স্থায়ী ভবন বা যেকোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। রেলের জমি লিজ নিয়ে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে জায়গার ক্যাটাগরির ওপর রেলওয়েকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। কিন্তু এই আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই।

স্থানীয়রা জানায়, এ উপজেলায় কোনো সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে সরকার জায়গা খুঁজে পায় না। জায়গার অভাবে গত কয়েক বছর ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে না।

ভবন নির্মাণকারী ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বাজারে বসবাসকারী বেশির ভাগ ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রেলের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তাই তাঁদের দেখাদেখি আমিও বহুতল ভবন নির্মাণ করছি। নির্মাণকাজে রেলের কর্মকর্তারা বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে রেল কর্মকর্তারা আবার ঝামেলা করবেন। তবে ভবন নির্মাণ হয়ে যাবে।’

বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাওসার হাবিব বলেন, ‘জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রেলওয়ের নিজস্ব জনবল রয়েছে। তাই ভূমি অফিস এসব ভবন নির্মাণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’

পাকশী রেলওয়ে অফিসের কানুনগো আব্দুল কাদের বলেন, ‘রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি পুলিশ দেখবে।’ তবে তিনি দখলদারদের কাছে ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উল্লাপাড়া রেলওয়ে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করতে একটি টিম ভাঙ্গুড়ায় পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে মৌখিক নোটিশ দিয়ে এসেছেন। এর পরও ভবন নির্মাণ কাজ চালু থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

এ বিষয়ে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী অফিসের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান হোসেন বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখব।’
তবে এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। রেলের জমি লিজ নিয়ে অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে। তবে জায়গার ক্যাটাগরির ওপর রেলওয়েকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে। কিন্তু এই আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই।

স্থানীয়রা জানায়, এ উপজেলায় কোনো সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে সরকার জায়গা খুঁজে পায় না। জায়গার অভাবে গত কয়েক বছর ধরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে না।

ভবন নির্মাণকারী ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বাজারে বসবাসকারী বেশির ভাগ ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রেলের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। তাই তাঁদের দেখাদেখি আমিও বহুতল ভবন নির্মাণ করছি। নির্মাণকাজে রেলের কর্মকর্তারা বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ম্যানেজ করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে রেল কর্মকর্তারা আবার ঝামেলা করবেন। তবে ভবন নির্মাণ হয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাওসার হাবিব বলেন, ‘জায়গা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রেলওয়ের নিজস্ব জনবল রয়েছে। তাই ভূমি অফিস এসব ভবন নির্মাণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।’

পাকশী রেলওয়ে অফিসের কানুনগো আব্দুল কাদের বলেন, ‘রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি পুলিশ দেখবে।’ তবে তিনি দখলদারদের কাছে ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

উল্লাপাড়া রেলওয়ে থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করতে একটি টিম ভাঙ্গুড়ায় পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা ভবন নির্মাণ বন্ধ করতে মৌখিক নোটিশ দিয়ে এসেছেন। এর পরও ভবন নির্মাণ কাজ চালু থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

এ বিষয়ে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী অফিসের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান হোসেন বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখব।’
সূত্র: কালের কন্ঠ

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!