বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

বাইরে তালা, ভেতরে চলে কোচিং

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই কোচিং সেন্টারে ক্লাস চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের অষ্টমনিষা বাজারে ‘চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল’ নামে ওই কোচিং সেন্টারে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ক্লাস চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারি মাসে অষ্টমনিষা বাজারে চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল নামে কোচিং সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরই কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টারে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করে নিয়মিত পাঠদান শুরু করেন। এসব শিক্ষার্থীদের উপজেলার বিভিন্ন এমপিও ও নন এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে সকল শ্রেণির বই সংগ্রহ করা হয়। এরপর করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে চলনবিল বিজ্ঞান স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। পরে একাধিকবার বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম গোপনে চালু করার চেষ্টা করলেও অভিভাবকদের বাধায় করতে পারেননি কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

এরপর এ বছর জানুয়ারি মাসে বই বিতরণের কথা বলে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয় পরিচালক। কোচিং সেন্টারে উপস্থিত না হলে বই দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে পাঠায় অভিভাবকরা। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টার চালানোর অভিযোগে স্থানীয় সচেতন অভিভাবক উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দুই হাজার স্কয়ার ফিটের একটি একতলা ভবনের সামনের অংশে একাধিক দোকান রয়েছে। ভবনের কোচিং সেন্টারে প্রবেশের গেটে বাহির থেকে তালা দেওয়া থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা যায়নি। এমনকি বাহির থেকে ডাকলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, ভবনের ভেতরের কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। পরে গেটে দাঁড়িয়ে থাকলে শিক্ষার্থীদেরকে ভবন থেকে বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখা যায়। অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল না মাস্ক।

শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, কোচিং সেন্টার হলেও এটি এখন বিদ্যালয়ের মত পরিচালিত হয়। বছরের শুরুতে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পরেও বিদ্যালয়ে না গেলে বই পাওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোচিং সেন্টারে ক্লাস করছে।

কোচিং সেন্টারের পরিচালক লিয়াকত হোসেন মুঠোফোনে বলেন, শুনছি সরকার স্কুল খুলে দিবে এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা নিবে। তাই সিলেবাস দেখিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে আসতে বলা হয়। তবে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসতে বলা হয়েছে। এ সময় তিনি জানান, উপজেলার অনেক কোচিং সেন্টারে গোপনে ক্লাস চলছে তাই আমরাও শুরু করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে এখনো দেশে স্কুল ও কলেজ খোলা হয়নি। এ অবস্থায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কোচিং সেন্টার চালু করায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!