সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আ.লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হলেন প্রিন্স এমপি শফিক ফিড মিলস্ লি: ডিলার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত সুচিত্রা সেনের অষ্টম প্রয়ান দিবস উপলক্ষে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত পাবনায় সাংবাদিকের বাড়ি-ঘরে হামলা ভাংচুর ও প্রাণনাশের হুমকি সুজানগর পৌর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও প্রচারণায় বাধার অভিযোগ সাঁথিয়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনা পরিকল্পিত, গ্রেফতার ১ চাটমোহরে দুই সিএনজি সংঘর্ষে পথচারী বৃদ্ধ নিহত ভোটে জিতেই খুন হলেন বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর ঈশ্বরদী পৌরসভায় আ.লীগ প্রার্থী ইসাহাক আলী মালিথা নির্বাচিত সাঁথিয়া পৌরসভায় আ.লীগ প্রার্থী মাহবুবুল আলম বাচ্চু নির্বাচিত

স্ত্রী স্বীকৃতির দাবিতে কলেজছাত্রী শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
Pabnamail24

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় স্ত্রী’র সামাজিক মর্যদা পেতে বিয়ের কাবিন ও কোর্টের এফিডেভিটের কাগজপত্র নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান শুরু করেছেন মেহরিন সুলতানা (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রী। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মন্ডুতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামে। মেহরিন সুলতানা উপজেলার নৌবাড়িয়া গ্রামের রবিউল করিমের মেয়ে ও ভাঙ্গুড়া হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে এবছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় মেহরিনের বাবা রবিউল করিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে খায়রুল ইসলামের সঙ্গে একই উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের নৌবাড়ীয়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে মেহরিন সুলতানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মেহরিন। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে খাইরুল ইসলামের বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে মেহরিন গর্ভের সন্তান নষ্ট করে। পরে দু’জনে এপ্রিল মাসের ৫ তারিখে পাবনার আদালতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এবং একই দিনে ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে কাজী অফিসের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু বিবাহের পরে স্ত্রী হিসাবে স্বীকৃতিনা পেয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ের কাবিন ও কোর্টের এফিডেভিটের কাগজপত্র নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে হাজির হন।

মেয়েটি শ্বশুর বাড়িতে ঢুকে নিজেকে খাইরুলে স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। তখন শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাকে চর-থাপ্প্রমারে এবং ঘারধরে বের করে দেয়। তারপরও মেয়েটি ঐ বাড়ির বাহির উঠানে বসে থাকেন। ততক্ষণে মেয়েটির স্বামী খাইরুল ইসলাম তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের এসআই মোদাচ্ছের ঘটনাস্থলে যান। তবে বিষয়টি নারী ও শিশু অধিকার সম্পর্কিত হওয়ায় মেয়েটিকে আইনগত সহায়তা তারা দিতে পারেননি বলে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান।

মেহরিন সুলতানা জানান,একবছর আগে খাইরুলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে তাদের একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। মেহরিন গর্ভধারণও করে। তখন খাইরুল শর্ত দেয় যে গর্ভপাত না করলে সে তাকে বিয়ে করবে না। তখন পিলট্যাবলেট খেয়ে গর্ভপাত করানো হয়। তিনি আরো বলেন,তাকে স্ত্রী হিসাবে মেনে না নিলে আত্মহত্যা করবেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসনাৎ জাহান বলেন,সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যায় কিন্তু ছেলের বাবা বিষয়টি মেনে না নেওয়ায় আদালতের আশ্রয় নিতে মেয়ের বাবাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খাইরুলের বোন আশা পারভীন বলেন, মেয়েটি ষড়যন্ত্র করে আমার ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। মেয়েটির স্বভাব চরিত্র ভালো নয়। তাই তাকে কোনোভাবেই পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ির গৃহবধূ হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব না। প্রয়োজনে আমরা থানা প্রশাসনের সহায়তা নেব।

এদিকে বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি তার শ্বশুর বাড়ির বাহির উঠানেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!