বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

পুত্রবধু উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় পিতা পুত্র খুন, আসামীদের গ্রেফতার দাবী গ্রামবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০
Pabnamail24

পরিবারের নারী সদস্যকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে খুন করা হয় পিতা,পুত্রকে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন হামলাকারীদের আঘাতে রক্তাক্ত পরিবারের ১৫ সদস্য। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ডাসবেলাই গ্রামের এমন লোমহর্ষক ঘটনার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী। গত এক সপ্তাহ ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, চলনবিলের মাঝে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ডাসবেলাই। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামটিতে পৌঁছতে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় কয়েক মাইল পথ। দুর্ঘটনা কিংবা সহিংসতায় দূর্গম পথ পেরিয়ে গ্রামটিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর পৌঁছতে কেটে যায় অনেকটা সময়। আর এই সুযোগেই সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি বেলাল হোসেন।

ডাসবেলাই গ্রামের বাসিন্দা কাউছার আহমেদ জানান, সম্প্রতি, গ্রামের মসজিদের পুকুর বেলাল জোরপূর্বক দখলে নিলে, বিরোধীতা করেন প্রতিবেশী আব্দুল গফুর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলাল তার অনুসারী বখাটে মফিদুলকে লেলিয়ে দেন ঐ পরিবারের নারী সদস্যদের উত্যক্ত করতে। অতিষ্ঠ হয়ে তারা প্রতিবাদ জানালে, গত ১৪ অক্টোবর ভোরে দলবল নিয়ে গফুরের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালান বেলাল। সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন গফুরের বড় ভাই তোরাব আলী (৮০) ও ভাতিজা ফজলুল হক (৩৫)। আহত হন নারীসহ পরিবারের ১৫ সদস্য।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় আব্দুল গফুরের পুত্রবধু রত্না বেগম বাদী হয়ে বেলাল, মফিদুলসহ হামলাকারী ৪০ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আসামীরা। ঘটনার ১৫ দিন পরেও মূল হোতারা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ কর্মসূচী ডেকে দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী করছেন তারা।

হামলার ঘটনায় আহত আব্দুল গফুর জানান, আমার পুত্রবধুকে মফিদুল ক্রমাগত কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল। বাড়িতে এসে উত্যক্তও করছিল। বিষয়টি পুত্রবধু আমাকে জানালে আমি বেলালকে বিষয়টি জানিয়ে মফিদুলকে শাসন করতে বলি। বেলাল মফিদুলকে শাসন না করে উল্টো দলবলসহ হাঁসুয়া, রামদা, চাপাতি, লাঠিসোটা নিয়ে গত ১৪ অক্টোবর আমাদের বাড়িতে হামলা করে। আমাকে ও আমার ছেলেকে মারতে শুরু করলে,চিৎকার চেঁচামেচিতে আমার ভাই তোরাব আলী ও ভাতিজা ফজলু আমাদের বাঁচাতে ছুটে আসে। তখন তারা তাদের মারাত্নকভাবে কুপিয়ে আহত করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েও বাঁচানো যায়নি।

নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার চাচা শ^শুরকে মারতে দেখে আমার শ^শুর ও স্বামী বেলালের কাছে মিনতি করে বলেন, আল্লাহ রাসুলের দোহাই লাগে তোমরা আমাদের মেরো না। কিন্তু তারা কারো কথাই শোনেনি, আমার চোখের সামনে হাসুয়া, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আমার স্বামী ও শ^শুরকে হত্যা করেছে। আমি বেলাল, জিয়া, মফিদুলসহ সব আসামীর ফাঁসি চাই।

এদিকে, হত্যাকান্ডের দিন থেকেই পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা এজাহার নামীয় ৭ আসামীকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছি। তারা হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বেলালসহ অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রামবাসীর নিরপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান ্ওসি আনোয়ার হোসেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!