বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:০৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আব্দুল্লাহ-গালিব সৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলায় পাবনা ইগলস জয়ী পাবনায় আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ, বাধা দেয়ায় লাঞ্ছিত ৩ আইনজীবী চলনবিলে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো রোপণে ব্যস্ত ঈশ্বরদীতে শিশু হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন চলনবিলাঞ্চলে শীতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চাটমোহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে দুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচনী সংঘাতে এলাকাছাড়া পরিবারের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে পাবনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাবনায় পদ্মা নদীর বুকে সেই রাস্তা অপসারণ করলো প্রশাসন রূপপুর প্রকল্পে থামছে না চুরি, এবার ক্যাবল চুরি

কাজিরহাট ঘাটে ঢাকামুখি কর্মজীবী নারী পুরুষের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১
Pabnamail24

রপ্তানিমুখী সব মিল কল-কারখানা রবিবার থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসায় কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটছে মানুষ। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের শনিবার সকাল থেকেই পাবনার কাজিরহাট ফেরি ঘাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলিতে পা রাখার মতো জায়গা ছিল না। মানুষের ভিড়ে ফেরিতে কোনো যানবাহন পার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

পাবনা শহওে বাড়ি এবং ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় উর্দ্ধতন নির্বাহী পদে চাকরিরত ফারুক সরকার বলেন, এবারের ঈদে বাড়িতে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন ও কারখানা বন্ধের ঘোষণার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাড়িতে এসেছিলাম। হঠাৎ করে কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিপদে পড়েছি। পরিবারের সদস্যদের রেখে আমাকে একাই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে।

কাজিরহাট ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, এতো লোকজন আজ ঢাকায় যাচ্ছে, ঈদের আগের দিনও এতো মানুষ এই রুটে চলাচল করে নাই। তবে অধিকাংশ মানুষই তৈরী পোষাক কারখানায় চাকরী করেন। কাল থেকে তাদের অফিস, তাই তারা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ছুটছে। এদের কারোর মধ্যে স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা নেই।

Pabnamail24

ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া এক গার্মেন্টসকর্মী রোমানা খাতুন জানান, আমি বাড়ি থেকে কোন মতো আরিচা পর্যন্ত এসেছি। এখান থেকে যাওয়ার জন্য কিছু প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে চাইছে কিন্তু একশত টাকার ভাড়া ৬ শত থেকে ৮ শত টাকা দাবী করছেন। এতো টাকা দিয়ে গেলে আমার কাছে কোন টাকা থাকবে না, তাই উপায় না পেয়ে কম টাকায় ট্রাকে যাওয়ার চিন্তা করছি বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যাত্রী বলেন, আমারা কী করব? সরকার লকডাউন দেয়, আবার লকডাউনের মধ্যে অফিসও খুলে দেয়, কেন? আমাদের ভোগান্তির কথা কেউ ভাবেন না। আমরা কাজ-কাম করে খাই বলেই কি আমাদের কোন মূল্য নেই?

কাজিরহাট ফেরিঘাটে কর্মরত সাব্বির হোসেন জানান, এ ঘাটে ভীড় হয় তবে এতোটা হবে আন্দাজ করতে পারি নাই। ফেরিতে সাধারণত এক থেকে দেড় হাজার যাত্রী পার করা হয়। এখন ৩/৪ হাজার মানুষ পার হচ্ছে। এখানে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

বেড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল হক বাবু বলেন, ঢাকায় কর্মরত লোকজন বৃষ্টি, আইন শৃংখলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের কর্মস্থলে ফিরছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মহাসড়কে অটোরিক্সা, সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়িতেও অনেকেই চলাচল করেছেন। আবার কেউ কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায় করেও ছুটে চলছে। কারোর মাঝে কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাও নেই।

কাজিরহাট ঘাটের ব্যবস্থাপক মাহাবুবুর রহমান বলেন, সকাল থেকে যে কয়টি ফেরি ছেড়ে গেছে তার প্রতিটিতেই ৪ হাজারের বেশি মানুষ ছিল। ঘাটে ফেরি দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষ উঠে পড়ায় যানবাহন নামাতে বেগ পেতে হয়েছে। নতুন করে কোনো যানবাহন ফেরিতে তোলাও সম্ভব হয়নি। লকডাউন চলায় সড়ক পথে তেমন যানবাহন চলছে না।

বিষয়টি নিয়ে পাবনার সিভিল সার্জন ডা: মনিসর চৌধুরী বলেন, করোনার ভয়াবহতার কথা মাথায় না রেখে এভাবে চলাচল করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরো বাড়বে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। এভাবে চলাচল করলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আশংকা করেন তিনি।

 

Pabnamail24

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!