বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আব্দুল্লাহ-গালিব সৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলায় পাবনা ইগলস জয়ী পাবনায় আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ, বাধা দেয়ায় লাঞ্ছিত ৩ আইনজীবী চলনবিলে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো রোপণে ব্যস্ত ঈশ্বরদীতে শিশু হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন চলনবিলাঞ্চলে শীতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চাটমোহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে দুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচনী সংঘাতে এলাকাছাড়া পরিবারের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে পাবনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাবনায় পদ্মা নদীর বুকে সেই রাস্তা অপসারণ করলো প্রশাসন রূপপুর প্রকল্পে থামছে না চুরি, এবার ক্যাবল চুরি

অনিয়মে রাজি না হওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার বেড়া উপজেলায় অনিয়মে রাজি না হওয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক হয়েও চাকুরী বিধি লংঘন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পরিচয় দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঠিকাদারী কাজ প্রভাব খাটিয়ে বাগিয়ে নেয়া, কাজ না করেই বিল উত্তোলনসহ নানা অভিযোগ ঐ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে, বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে সম্প্রতি কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগ অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে নিজেদের প্রভাব দেখাতেই ঐ চক্রটি অসত্য সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে, কাজ না পাওয়ার সাথে ঘুষ দাবির অভিযোগের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বারে জানিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা।

বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, চলতি অর্থ বছরে বেড়া উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা উপকরণ ক্রয় (¯িøপ) বাবদ ৭০ লাখ টাকা, রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে ৩০ লাখ টাকা এবং শ্রেণি কক্ষ সজ্জিতকরণে ২০ লাখ টাকাসহ মোট এক কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সরেজমিন কাজের গুণগতমাণ ও শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা দেখেই চূড়ান্ত বিল প্রদান করে। কিন্তু বিধি বহির্ভূত ভাবে বেশ কিছু প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজের মান যাচাইয়ের আগেই চূড়ান্ত বিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

আব্দুস সালাম আরো জানান, সাঁথিয়া উপজেলার ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলাম তাকে উপকরণ সরবরাহের কাজ দেয়ার জন্য দাবি করেন। জহুরুল ইসলামের ভাই আমিনুল ইসলাম সাঁথিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি জুয়েল আমিন, আমিন ইসলাম, আমিন জুয়েলসহ বিভিন্ন নামে পরিচয় লুকিয়ে চাকুরী বিধি লংঘন করে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তাদের মামা আকতারুজ্জামান আখতার দেশের একটি শীর্ষ দৈনিকের জেলা প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে, ভাগ্নে জহুরুলকে কাজ দিতে চাপ দেন। কিন্তু বিধি বহির্ভূত হওয়ায় তাদের কাজ দেয়া সম্ভব হয়নি। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে, তারা কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আমার বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের ৩০ভাগ ঘুষ দাবির অসত্য অভিযোগ করান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানায়, ¯িøপের টাকায় উপকরণ সরবরাহে পৌর এলাকায় কাজের মান ভালো ইউনিয়ন পর্যায়ে বেশিরভাগ কাজ মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ভাগ শেষ করা হয়েছে। কিন্তু তারা চূড়ান্ত বিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তা না দেয়ায় প্রধান শিক্ষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। কাজ না পেয়ে তাদের সাথে যোগ দেন সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ নিয়ন্ত্রণ করা সিন্ডিকেটটি। গত বছর তারা ¯িøপ কর্মসূচির নি¤œমানের সামগ্রী সরবরাহ করায় ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক আকতারুজ্জামান তার ভাগ্নে জহুরুলকে ৭০ লাখ টাকার উপকরণ সরবরাহের কাজ দিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্তত ৪ বার ফোন করেন। কথামত কাজ না দেয়ায় পত্রিকায় ঘুষ চাওয়ার মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, জহুরুল ইসলামের ভাই আমিনুল ইসলাম জুয়েল সাঁথিয়ার কুমারগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়েও চাকুরীবিধি লংঘন করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। এবং প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিয়মিত স্কুলে আসেন না ও বিজ্ঞাপন বানিজ্য করে বেড়ান। পাশাপাশি তারা একই পরিবারের কয়েকজন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে চাকুরী করায় তারা এই দপ্তরের বিভিন্ন কাজ প্রভাব খাটিয়ে বাগিয়ে নেন।

শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম আরো বলেন, তিনি এর আগে বেড়ায় কর্মরত থাকাকালীন দূর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষকদের ক্লাস ফাঁকি বন্ধ করায় অনেক শিক্ষকের বিরাগভাজন হন। কয়েকমাস আগে পুনরায় বেড়ায় যোগদানের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত হয়ে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার নির্দেশ দেন। গত দেড় বছরে একদিনের জন্যও স্কুলে আসেননি এমন কয়েক শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়ায় তারাও একজোট হয়ে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে, উপকরণ সরবরাহের কাজ চাওয়া ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি বড় কোন ঠিকাদার নই, কিছু কিছু স্কুলে সামান্য উপকরণ সরবরাহ করিমাত্র। কাজ দেয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলাম তিনি আমাকে পাত্তাই দেননি। উনার আচরণ খুবই খারাপ, শিক্ষকদের সাথে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। ঘুষ দাবির বিষয়টি ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকরাই ভালো বলতে পারবেন। সাংবাদিক মামা নিউজের প্রয়োজনে তাকে ফোন করেছিলেন, আমার কাজের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। আমার কাজ না পাওয়ার সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

জহুরুলের ভাই কুমারগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, উপকরণ সরবরাহের ব্যবসা আমার ভাই করে, আমি এর সাথে জড়িত নই। সরকারী চাকুরি করে কিভাবে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শখের বসে সাংবাদিকতা করি, সে পরিচয়ে প্রভাব খাটানো কিংবা স্কুল ফাঁকির অভিযোগ সত্য নয়।

পাবনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মনসুর রহমান বলেন, সরকারী চাকুরিরত অবস্থায় উপকরণ সরবরাহ কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুযোগ নেই। জহুরুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামের ব্যবসা কিংবা চাকুরীর বিষয়ে জানা নেই। তবে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সবুর আলী জানিয়েছেন, শিক্ষকরা ঘুষের দাবির মৌখিক অভিযোগ করেছেন। শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যও শুনেছি। তবে ¯িøপসহ সকল কাজ শতভাগ কাজ না হওয়া পর্যন্ত চুড়ান্ত বিল না দেয়ার জন্য নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!