রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন

নাব্যতা সংকটে যমুনায় ডুবোচরে আটক ২৫টি জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১
Pabnamail24

যমুনায় নাব্যতা সংকটের কারণে সিসরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে সমসস্যা হচ্ছে। এ বন্দরে প্রতিদিন যেখানে ১২ থেকে ১৫টি জাহাজ ভিড়ে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে দু- তিনটি জাহাজ ভিড়ছে। এদিকে এক সপ্তাহে নাব্য সংকটে আরিচা থেকে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর পর্যন্ত আট পয়েন্টে আটকে আছে ২৫ পণ্যবাহী জাহাজ । এতে বন্দরের এক হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৪ শতাধিক বেকার হয়ে পড়ছেন।

নৌবন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার বেশির ভাগ সার সরবরাহ হয় বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের মাধ্যমে। এ ছাড়া তেল, সিমেন্টের ক্লিংকার, কয়লা ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এ বন্দরে ভিড়ে জাহাজ। প্রতি বছর এই সময়ে পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়ে সরগরম থাকে এই নৌবন্দর। এবার জাহাজ কমে যাওয়ায় নৌবন্দর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। তারা জানান, নদীতে পানি কমে গেছে, জেগেছে ডুবোচর। এসব কারণে জাহাজ বন্দরে ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ এর সহকারী পরিচালক ও বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের পোর্ট অফিসার সাজ্জাদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘এই নৌপথের বাঘাবাড়ী থেকে আরিচা পর্যন্ত অংশে আমাদের মৌসুমের শুরু থেকেই তিনটি ড্রেজার কাজ করে চলেছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছিল ড্রেজিং করে সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল। নদীতে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় আবার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখন মোট চারটি ড্রেজার কাজ করছে। আশা করছি আগামি ৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তবে বেশির ভাগ জাহাজই ১০ থেকে ১২ ফুট ড্রাফট নিয়ে বন্দরে আসছে, যে কারনেই সমস্যা বেশি হচ্ছে।’

বন্দরসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্তাব্যক্তি জানান, করোনা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার পর থেকেই বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে অচলাবস্থা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নৌবন্দরে কর্মরত এক হাজার শ্রমিকের মধ্যে প্রায় সবাই বেকার হয়ে পড়েন। পরে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হলেও শ্রমিকদের বড় একটি অংশ বেকারই থেকে যান। শ্রমিকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভেবেছিলেন বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে চলতি বছরের শেষের দিকে নৌন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে শ্রমিক তদারকির দায়িত্বে থাকা বন্দর সরদার ওহাব আলী জানান, ‘কম জাহাজ ভেড়ায় নৌবন্দরের তিন ভাগ শ্রমিকের মধ্যে দুই ভাগ শ্রমিকই বেকার। যারা কাজ করছেন, তারা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় অর্ধেক মজুরি পাচ্ছেন। এ অবস্থায় চরম দুরবস্থায় দিন কাটছে শ্রমিকদের। সবমিলে বন্দরটি স্থবির হতে বসেছে।’

ু বন্দরের ঘাট ইজারাদার আব্দুস সালাম জানান, বছরের এ সময়েই সবচেয়ে বেশি জাহাজ নৌবন্দরে ভেড়ার কথা। অথচ নদীতে নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে যমুনা নদীতে বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা, মোহনগঞ্জ, কাজিরহাট,এলাকার বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকটে আটকে যাওয়া এক সপ্তাহে মাত্র চারটি জাহাজ বন্দরে ভিরতে পেরেছে।

প্রতিদিন দুই থেকে তিনটির বেশি জাহাজ নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না। যে জাহাজগুলো ভিড়ছে, সেগুলোকে নৌবন্দরের ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার আগে প্রায় অর্ধেক পণ্য ছোট নৌযানে খালাস করে ভিড়াতে হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন ঠিকাদারেরা পণ্য পরিবহনে নগরবাড়ী ঘাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নৌঘাট বেছে নিচ্ছেন। ফলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরটিতে জাহাজের সংখ্যা কমে গেছে।

Pabnamail24

এভিএম ফয়সাল শিপিং এর চালক জানান, পণ্যবোঝাই জাহাজগুলো আরিচা পর্যন্ত নির্বিঘেœ আসতে পারছে। কিন্তু এর পরে বেড়া উপজেলার নতিবপুর, ব্যাটারিরচর, নাকালিয়া, পেঁচাকোলা ও মোহনগঞ্জ এসে বিপদে পড়ছে। এসব স্থানে যমুনা নদীর গভীরতা ৭-৮ ফুটে নেমে এসেছে। অথচ পণ্যবোঝাই জাহাজ চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১০ ফুট গভীরতার প্রয়োজন। তাই জাহাজগুলোকে দৌলতদিয়ায় নোঙর ফেলে ট্রলারসহ বিভিন্ন ছোট নৌযানে আংশিক পণ্য খালাস করে তারপর নৌবন্দরে আসতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহন ব্যয় যেমন বাড়ছে; তেমনি সময়ও লাগছে বেশি।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে গিয়ে দেখা যায়, তিন-চারটি জাহাজ ভিড়ে আছে বন্দরে। এর সঙ্গে ভিড়ে আছে চার-পাঁচটি সারভর্তি ছোট নৌযান। সেগুলো থেকে শ্রমিকেরা সার নামাচ্ছেন, তাদের সংখ্যা দেড়শ। অথচ অন্যান্য বছর এই সময়ে ৫০০-৬০০ শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে বলে জানান বাসিন্দারা।

শুক্রবার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া বাজার ও পেঁচাকোলা গিয়ে দেখা যায়, ২০ টি জাহাজ যমুনার ডুবোচরে আটকা পড়েছে। এছাড়াও রাজধরদিয়া, চরশিবালয় ও নাকালির চরে বিভিন্ন পয়েন্টে আরও ৫ টি জাহাজ আটকে থাকার তথ্য জানা গেছে। ওইসব কার্গোজাহাজ রাসায়নিক সার, কয়লা, গম ও চাল নিয়ে বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে যাচ্ছিল।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অফিসে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য ১০ থেকে ১১ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এ নৌপথে কোথাও কোথাও ৮ থেকে ৯ ফুট। বাঘাবাড়ী নৌবন্দর থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত নৌপথের চরসাফুল্লা, নাকালিয়া, নাকালী, রাজধরদিয়া, নগরবাড়ীসহ ৮ পয়েন্টে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। গত শনিবার থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচরে ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে। ড্রেজিং করার পড় গত পাঁচদিনে আটকে পড়া ১০টি জাহা কে চলার পথ করে দেওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!