বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন প্রক্টর মো. কামাল হোসেন পাবনা হাসপাতালে দালালের বিরুদ্ধে নার্সকে মারধরের অভিযোগে কর্মবিরতি বাউয়েট আইন অনুষদের তিন সদস্য বিশিষ্ট টিমের দিল্লি ল’ কনফারেন্সে অংশগ্রহন। মুক্তিতে বাধা নেই সাবেক এমপি সেলিম রেজা হাবিবের দুলাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসীন্দাদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ কাশীনাথপুরে ক্যাডেট কলেজের নামে প্রতারণা! মালঞ্চি ইউনিয়ন, জমির ভুয়া মালিকানায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ বেড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ধর্ষণ মামলায় পাবনার সাবেক এমপি আরজুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা

শেখ হাসিনা, প্রেরণা আর সাহসের বাতিঘর, আমাদের আপা………….

গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি
  • প্রকাশিত বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
Pabnamail24

কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন প্রেরণার বাতিঘর হয়। আধাঁরের মাঝে আলোকবর্তিকার মতো পথ দেখান দিশেহারা মানুষকে। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা তেমনই একজন, যিনি আজ ২০ কোটি বাঙালির অনুপ্রেরণার উৎস, যিনি এই দেশে আস্থা, স্থিরতা আর শত বাঁধাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখান সকলকে।
৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সূর্য ঢেকে যায় অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে। বিদেশে থাকায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। পিতা মাতা স্বজন সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব হবার পর তৎকালীন খুনী সরকার ও তাদের দোসররা কেড়ে নিয়োছিলো তার নিজ দেশে ফেরার অধিকারও। যার পিতার হাতে জন্ম এ দেশের, ইতিহাসের নির্মমতায় তাকেই দেশে দেশে রিফিউজি হয়ে বাঁচতে হয়েছে বছরের পর বছর।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনী মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগের অনেকেই। মূহুর্তে খোলস পাল্টে ফেলেন সারা দেশে আওয়ামীলীগে লুকিয়ে থাকা মীরজাফর লোভাতুর মানুষেরা। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে নিয়ে শত নির্যাতনের পরেও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর মুজিববাদের পতাকা আগলে রেখেছিলেন অনেকেই। কারাগারের অভ্যন্তরে বছরের পর বছর কেটেছে। আমার পিতা আবু তালেব খন্দকার বঙ্গবন্ধুর সহচর ও আদর্শে অবিচল কর্মী ছিলেন। সেই দুঃসহ দিনগুলোতে তিনি ছিলেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। ফলে সারা দেশে মুজিববাদে বিশ^াসী পরিবারগুলোর মতো আমারও শৈশব, কৈশোরের দিনগুলো কেটেছে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা , সরকারের দমন পীড়নে বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ,স্বাধীনতার পক্ষ ত্যাগ না করে, সামরিক শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা আওয়ামীলীগ করেছেন তারাও একপর্যায়ে শক্তি হারিয়ে ফেলছিলেন। ঝাঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সাগরে ক্লান্ত মাঝির মতো অসহায় হয়ে পড়েছিলেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ঠিক এমন মূহুর্তে মৃত্যুর হুমকি উপেক্ষা করে দেশে ফিরে লক্ষ লক্ষ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীর দিকভ্রান্ত নৌকার হাল ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। সারা দেশ ঘুরে আওয়ামীলীগকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে গড়ে তোলেন মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি। ৪১ বছর ধরে তাই বাংলার স্বাধীনতার স্বপক্ষের চেতনার মানুষের একান্ত আস্থা বিশ^াসের ঠিকানা কেবল জননেত্রী শেখ হাসিনা।
একজন হাসু থেকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল কন্যা, একজন জননেত্রী, একজন দেশপ্রেমিক তথা সর্বোপরি আপামর জনসাধারণের প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠবার যে ইতিহাসটি তিনি তৈরি করেছেন তা শুধু অনুকরণীয়ই নয়, অনন্য। আজ আমাদের ভালবাসার প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন, হে কান্ডারী।
জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রথম দেখার স্মৃতি এখনো আমার মনে রোমাঞ্চ জাগায়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে। তখন আমি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। পাবনা থেকে শত শত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী নেত্রীকে একনজর দেখতে ছুটে যান ঢাকায়। আব্বার সাথে আমিও গিয়েছিলাম। নেত্রী ফিরে আসার পর তাকে দেখেছিলাম অশ্রুসিক্ত নয়নে। প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরে এসে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশে আবার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা পুণঃ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন। পথচলার শক্তি ফিরে পায় ক্লান্ত বিপর্যস্ত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে কিশোরবেলায়ই জড়িয়ে পড়ি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই বঙ্গবন্ধু কন্যার সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান, জাতির জনকের কন্যা হয়েও তিনি ছিলেন অতি সাধারণ। আমাদের বেঁধে রাখতেন পরম মমতায়, আদর, স্নেহ আর শাসনে।
এমন একটি ঘটনার স্মৃতি মনে পড়ে। নেত্রীর ধানমন্ডির বাড়িতে তাকে ঘিরে গল্প করছিলাম সবাই। প্রসঙ্গ ক্রমে কথা উঠলো হলের খাবার নিয়ে। অভিযোগ অনুযোগের সুরেই তাকে বললাম আপা, হলের খাবারের মান খুবই খারাপ। খেতে পারিনা। আপা তখন আমাদের বললেন, তোরা তো রান্না করেই খেতে পারিস। আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা , ডিম ভাজি করে খাবি। আমি নিজেও রান্না করে খাই এগুলো। তোরা খেযে দেখ, ভালো লাগবে। এরপর থেকে আমরা মাঝে মাঝেই রান্না করে খেতাম। সেদিন তিনি ইচ্ছা করলেই কোন খাবার জন্য আমাদের হাতে নগদ টাকা দিতে পারতেন। খুনী জিয়া ছাত্রদের অস্ত্রবাজি, চাঁদাবজি আর টেন্ডারবাজির পথ দেখিয়েছেন। আর আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা পরম মমতায় ছাত্রলীগের কমীদের ভর্তা ভাত রেঁধে খাওয়া শিখিয়েছেন। কষ্ট করে টিকে থাকা শিখিয়েছেন বলেই হয়তো আজও শত বিপদে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভয় পাইনা।
শেখ হাসিনার পথ চলা সব সময়ই ছিলো পাথর বিছানো পথে। দল ও দলের বাইরে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে তাঁকে প্রতিনিয়ত। সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি দেশের কল্যাণের প্রশ্নে আপোসহীন।
ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে চিনলেও আপা জানতেন না আমি আবু তালেব খন্দকারের ছেলে। হঠাৎ একদিন জানতে পেরে একটু রাগ করেই আমাকে বলেন আমি কেন পরিচয় জানাইনি। তারপর হঠাৎ একদিন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের হলে বাহাউদ্দিন নাসিম ভাইকে দিয়ে ৫০০ টাকা পাঠান। ভাই বললেন, আপা তোমার জন্য পাঠিয়েছে।
আসলে, দলের প্রধান হলেও আপা সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখতেন তৃণমূলের নেতা কর্মীর। আদর্শিক রাজনীতি করায় আব্বা কখনোই আর্থিক ভাবে সচ্ছল ছিলেন না। নেত্রী তা জানতেন। দুর্দিনে তার এই ভালোবাসা আমি কখনোই ভুলবো না। তাই প্রধানমন্ত্রী, বিশে^র অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক হলেও তিনি আমার আপা, আস্থার ঠিকানা।
২০০১ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় আসার পর অপারেশন ক্লিনহার্টে নির্মম নির্যাতনে আমাকে প্রায় পঙ্গু করে ফেলা হয়্ । আতঙ্কের সে দিনগুলোতে আপা নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন।
২০০৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষণ গণণা শুরু হলে আমি মনোনয়ন চেয়ে আপার সাথে দেখা করি। সেদিন দলের হেভিওয়েট অনেক নেতাই বলেছিলেন তোমাদের বয়স কম এখনি কেন এমপি নমিনেশন চাও। এগুলো পরে দেখা যাবে। তখন সাহস করে নেত্রীকে বলেছিলাম, আপা মাস্টার্স পাসের ১২ বছর পার হয়ে গেছে। আর কবে বড় হবো? শুনে বঙ্গবন্ধু কন্যা মুচকি হেসে ফেলেন। বলেন কাজ করো, আমি দেখবো।
এরপরে, পাবনা সদর আসনে মনোনয়নের জন্য তৃণমূলের ভোটে আমি প্রথম হই। একদিন সে কাগজ নিয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করি। আপা কাগজ দেখে খুবই খুশি হন। আমি আবদার করি আপা আমাকে মনোনয়ন দেন। তিনি বিবেচনার আশ^াস দেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপার ইচ্ছায় আমাকে মাত্র ৪০ বছর বয়সে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়া হয়। আমি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ি। আমার মতো একজন সাধারণ কর্মীর প্রতি তিনি যে অসীম মমত্ববোধ দেখিয়েছেন তা আমি কখনোই ভুলবো না।
এরপর, ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও আমাকে দলের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার আস্থা বিশ^াসের শক্তিতেই আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি।
২০১৪ সালে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হই। আপার সাথে দেখা করে সে কথা জানালে তিনি বলেন, তৃণমূল কর্মীরা যাকে নেতা বানাবে সেই হবে। কাউন্সিল অধিবেশনে অতিথি আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম ভাই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ফোন করে নেত্রীকে জানান দলের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক পদে আমাকে চায়। নেত্রী তখন বলেন, প্রিন্স কবে এমন সাংগঠনিক হলো, বুঝতেই তো পারিনি। ঠিক আছে কর্মীরা যা চায় তাই করেন। এরপর ২০২২ সালের সম্মেলনেও তিনি আমার হাতেই সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। একজীবনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছে যা পেয়েছি তা হাজার বছর কৃতজ্ঞতা জানালেও কম হয়।
সমুদ্র এবং মহাকাশ বিজয়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এবং শেখ হাসিনার দূরদর্শী ভূমিকার ফলেই সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর এবং উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে আজ মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কারিগরও আমাদের শেখ হাসিনা। বিশে^র যেখানেই যাই সেখানেই দেশরত্ন শেখ হাসিনা এক বিস্ময়ের নাম।
সম্প্রতি, কমওয়েলথ পার্লামেন্টারি দলের সদস্য হিসেবে কানাডা গিয়েছিলাম। সেখানে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে এসেছি শুনেই কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের সদস্যরা বললেন, ও তোমরা বাংলাদেশী, দ্যা গ্রেট লিডার শেখ হাসিনার দেশ থেকে এসেছো! আসো তোমাদের সাথে ফটোগ্রাফ তুলি। এরপর তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যপক প্রশংসা করলেন । গর্বে সেদিন আমার বুক ফুলে উঠেছিলো। কেবল কাডানাই নয় বিশে^র যখন যেখানে গিয়েছি শেখ হাসিনার কথা বলতেই বিশ^বাসীর এক অন্যরকম সম্মান দেখেছি। নীতি আদর্শে অবিচল, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে শেখ হাসিনা এখন সারা বিশে^র বিস্ময়, আমাদের অহংকার। সারাবিশে^ ছড়িয়ে থাকা আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর কাছে তিনি কেবল নেতাই নন, এক অনন্য ভালোলাগা অনূভূতির নাম।
বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রায় শেখ হাসিনা অপরিহার্য নেতৃত্ব। মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্থতা ও দীর্ঘজীবন কামনা করি।
শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের আপা।

লেখক, সাধারন সম্পাদক, পাবনা জেলা আওয়ামীলীগ, সংসদ সদস্য।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!