শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১০:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

সিঁড়ি ভেঙ্গে জায়গা বিক্রি করছেন সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল’র সভাপতি!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবু ইছাহাক শামীমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে সভাপতির একের পর এক স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা বিব্রত হলেও ভয়ে তাকে কেউ বাধা দিতে পারেন না বলেও অভিযোগ তাদের। ইতিপূর্বে একক সিদ্ধান্তে অর্থের লোভে বিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকা মুল্যের সম্পদ ও তিনি বিক্রি করেছেন। এতে কমে গেছে স্কুলের জমি ও খেলার মাঠ। ব্যাক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে স্কুলের সম্পদ বিক্রি করায় ফুসে উঠছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, প্রায় শতবর্ষী পাবনার নারী শিক্ষার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান পাবনা সেন্ট্রাল গার্লস হাইস্কুল। পাবনা মধ্য শহরের সুবিশাল বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদেও সভাপতি আবু ইছাহাক শামীম দায়িত্ব গ্রহনের পর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন। সরকারী অর্থ কিংবা ভবন নির্মানের বরাদ্দ প্রাপ্তির সুযোগ থাকা সত্বেও অনৈতিক উদ্দেশ্যে স্কুল ভবন নির্মানের দায়িত্ব একটি বানিজ্যিক ডেভলপার কোম্পানীকে দিয়ে দেন। সম্পূর্ণ অনৈতিক ভাবে কোম্পানিটির সাথে যোগসাজশে নীচতলায় কোন ক্লাশরুম না রেখে দোকান নির্মান করে তা বিক্রি করে দেন।

তৎকালীন সময়ের শিক্ষকরা জানান, মধ্য শহরে দোকান গুলো লক্ষলক্ষ টাকায় বিক্রি করে বিদ্যালয় তহবিলে নামমাত্র মূল্য দেখিয়ে জমা দেন সভাপতি। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নামমাত্র মুল্যে পুরাতন বিল্ডিং বিক্রিও করেন ঘনিষ্ট জনের নিকট। সে সময় এই ব্যপক লুটপাটের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও আবু ইছাহাক শামীমের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে কেউই প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। প্রশাসনও ব্যবস্থা না নেয়ায় এই দূর্নীতি দিনে দিনে চাপা পরে যায়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু ইছাহাক শামীম প্রায়শই অস্বাভাবিক অবস্থায় বিদ্যালয়ে এসে বিনা কারণে শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন। স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে কারো মতামতের তোয়াক্কা না করেই যা খুশি তাই করে বিদ্যালয়টিতে তিনি রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। বিদ্যালয়ের নীচ তলায় দোকান বিক্রি করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, বিদ্যালয়ে জরুরী বহির্গমন পথটিও সম্প্রতি বিক্রি করে দোকান নির্মাণ করেছেন। পূর্বের বিক্রি করা দোকানগুলো অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সেগুলো সম্প্রসারণ করেছেন। সম্প্রতি করোনায় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার সুযোগে মূল ফটকের পাশে প্রধান সিঁড়িসহ সুবিশাল জায়গাটিও বিক্রির জন্য খাবার বাড়ি নামের রেষ্টুরেন্টের সাথে চুক্তি করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি মূল ফটকের ডান পাশে নতুন সিঁড়ি নির্মানের কাজ করছেন। ডান পাশে একটি সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুপ্রশস্ত সিঁড়ি থাকা সত্বেও কেন নতুন সিড়ি তৈরী হচ্ছে জানেন না নির্মান শ্রমিকরাও।
বিনা প্রয়োজনে কেন নতুন সিড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তালেবুর রহমান বলেন, এটি বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ বলতে পারবেন, আপনারা তাদের সাথেই কথা বলুন।

বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবু ইছাহাক শামীমের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুলের জায়গা নতুন কওে বিক্র করা হচ্ছে না। আধুনিকায়ন করতে সবার সম্মতিতেই ডেভলপারকে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনেই পুরাতন সিড়িটি ভাঙ্গা হচ্ছে। এখানে কোন বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!