মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৫ দফা দাবীতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন ফারিয়া’র ঠিকাদার আওয়ামীলীগ নেতার হাতে এবার লাঞ্ছিত হলেন হিসাবরক্ষন অফিস সুপার দরিদ্র মানুষকে আইনগত সহায়তা দিতে সরকার আন্তরিক, সদিচ্ছার অভাবে মানুষ সুফল বঞ্চিত হচ্ছে- ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির আহ্বায়ক হলেন কামিল হোসেন সিগারেট ও বিড়ির দ্বৈতনীতি পরিহার করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আহব্বান সুজানগরে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে জামাই নিহত পাবনায় ড্রেজার মেশিনে অবৈধ ভাবে বালু উত্তেলন, ভাঙ্গছে ফসলী জমি আটঘরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত শহীদ শেখ রাসেল’র ৫৭তম জন্মদিন উদযাপন ভোক্তা অধিকার’র সেই এডি’র হাত থেকে নিস্তার চান ব্যবসায়ীরা

মাসে ২০ লাখ টাকা ‘মাসোহারা’ নেন ভোক্তা অধিকার অধিদফত’র সহকারী পরিচালক!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
Pabnamail24

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং বৈধ ও অবৈধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকা ‘মাসোহারা’ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার এ ধরণের কর্মকান্ডে খোদ জেলা প্রশাসনও চরম বিব্রত বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম পাবনা শহর এবং জেলার ৯টি উপজেলার ১১টি থানার বিভিন্ন এলাকার ব্রেড ফ্যাক্টরি, চানাচুর কারখানা, রেষ্টুরেন্ট, হোটেল, রেস্তরা, বেকারী, সেমাই কারখানা, তৈল, খৈল কারখানা, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, যৌন উত্তেজক সিরাপ জিংসিন তৈরির কারখানাসহ প্রায় আড়াই‘শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘মাসোহারা’ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ভাবে প্রতিমাসে তিনি কমপক্ষে তিনি ২০ লক্ষাধিক টাকা আদায় করে থাকেন। এ ছাড়া পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চর্তুথ তলার চিলেকোঠায় অবস্থিত তার অফিসের সকল আসবাবপত্র, ফ্যান, এসি দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ভেজাল পন্য তৈরি কারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের কথা বলে নিয়েছেন বলেও অভিযোগে প্রকাশ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহার বাড়ী পাবনা হওয়ায় তার নামেও মাসোহারা আদায় করা হয় বলে ভক্তভোগিরা জানান।

সুত্র জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম তার অফিসের পিওনের মাধ্যমে শহর এবং জেলার বিভিন্ন স্থানের ছোট বড় ব্যবসায়ীদেও নিজ অফিসে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন।

সুত্র আরও জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম প্রতিদিনই সন্ধ্যার পরে শহরের গাছপাড়া এলাকায় এক যুবকের অফিসে গিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকান্ড করে। এমনকি ঐ যুবকের সঙ্গে ইয়াবা, ফেনসিডিল সেবন এবং মদ্যপান করার অভিযোগ রয়েছে। ঐ যুবক পাবনা শহরের উপকন্ঠের সবচেয়ে বড় যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি কারখানার মালিকের শ্যাালক। ঐ কোম্পানী প্রতিমাসে পাবনাসহ সারা দেশে অন্তত ১০ কোটি টাকার যৌন উত্তেজক সিরা বিক্রি করে থাকে। সম্প্রতি সারা দেশে ধর্ষন বাড়ার পেছনে এই কোম্পানীর জিংসিন বা সিরাপ দায়ী বলে মনে করা হয়। এর আগ নঁওগা ও জয়পুরহাটে এই কোম্পানীর যৌন উত্তেজক সিরাপ পান করে ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে এখনও একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিশয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম শহরের এবং জেলার বিভিন্ন কোম্পানীর কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করলেও ঐ সব কোম্পানীতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালায়। পরবর্তিতে ঐ সব কোম্পানী থেকেই আবার দ্বিগুন মাসোহারা আদায় করে থাকে। না দিলে কোম্পানী বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সারা জীবনের জন্য সিলগালা করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

সুত্র আরও জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বিভিন্ন স্থানে অভিযান করলেও সে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনা। ‘ভুয়া রশিদ’ বইয়ের মাধ্যমে এ সব রশিদ কাটা হয়। এই টাকা তিনি ভাগ বাটায়োরা করে নেন। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার আইনে সংবাদদাতার জন্য ২৫ শতাংশ টাকার পুরোটাই যায় তার পকেটে। পাবনার ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের নির্লিপ্ততার কারণে সকল ব্যবসায়ী এবং শিল্প মালিকরা বড়ই অসহায়।

অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে আবার অনেকে ব্যবসা বন্ধ করার চিন্তা ভাবনা করছেন। এতে করে পাবনা জেলায় কয়েক লক্ষ মানুষ বেকার হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এর আগে শহরের বাইপাস এলাকার একটি সেমাই কারখানা থেকে তিনি দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না পেয়ে পরের দিন গিয়ে ঐ কোম্পানী সিলগালা এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন। ফলে কোম্পনীটি এখন চিরতওে বন্ধ।

সুত্র জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের দেশের বাড়ী চুয়াডাঙ্গায়। গত দুই বছরে কুষ্টিয়া এবং চুয়াডাঙ্গায় নামে বেনামে প্রায় শতাধিক বিঘা জমি কিনেছেন। এ ছাড়া ঢাতার উত্তরার ১১ নং সেক্টরের দুইটি ফ্লাট কিনেছেন বলে কানাঘুষা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংেক এবং পাবনা কুষ্টিয়া ও চুডাঙ্গার সঞ্চয় অফিসে নামে বেনামে কোটি টাাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তদন্ত করলেই শতভাগ এর সত্যতা মিলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবনা শহরের একটি বড় মিষ্টির দোকানের মালিক সাংবাদিকদের বলেন, তার ব্যবসা বা দোকানের কোন দোষ বা ত্রুটি নেই। মাসে এক লক্ষ টাকা মাসোহারা চাওয়া হয়েছে। তা দেওয়ায় তাকে দুই বার জরিমানা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবনা চেম্বারের এক প্রতিনিধি জানান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়মে ও অভিযোগে শত শত ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন। আমরাও জেলা প্রশাসনকে বলেছি। কোন কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর পাবনার সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। যারা এ সব অভিযোগ বলে বেড়াচ্ছেন তারাই প্রকৃত অপরাধী।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!