মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৫ দফা দাবীতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন ফারিয়া’র ঠিকাদার আওয়ামীলীগ নেতার হাতে এবার লাঞ্ছিত হলেন হিসাবরক্ষন অফিস সুপার দরিদ্র মানুষকে আইনগত সহায়তা দিতে সরকার আন্তরিক, সদিচ্ছার অভাবে মানুষ সুফল বঞ্চিত হচ্ছে- ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির আহ্বায়ক হলেন কামিল হোসেন সিগারেট ও বিড়ির দ্বৈতনীতি পরিহার করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আহব্বান সুজানগরে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে জামাই নিহত পাবনায় ড্রেজার মেশিনে অবৈধ ভাবে বালু উত্তেলন, ভাঙ্গছে ফসলী জমি আটঘরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত শহীদ শেখ রাসেল’র ৫৭তম জন্মদিন উদযাপন ভোক্তা অধিকার’র সেই এডি’র হাত থেকে নিস্তার চান ব্যবসায়ীরা

পাবিপ্রবি’র শিক্ষক রাাজনীতি, ভেতর-বাইরের হালচাল-পর্ব ১

পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডেস্ক
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০
Pabnamail24

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম’র অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন এর আজ প্রথম পর্ব: ক্যালিকো কটন মিলের মতো ইট-কাঠ-লোহার আরেকটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পাস কি পাবনাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে! এই প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম’র বিশেষ প্রতিবেদক এহতেশামুল হক।

 

সম্প্রতি একটি মূল ধারার প্রচারমাধ্যম মাছরাঙা টেলিভিশনে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলরের রাজকীয় বিলাসিতা, জমিদারি জীবন-যাপন এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রচার হওয়ায় বিষয়টি ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে পাবনায়। সংবাদ প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে ভাইস-চ্যান্সেলর ড. এম রোস্তম আলী একের পর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনৈতিকভাবে গ্রহণ করা টাকা-পয়সা ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন।

জানা গেছে, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় কোনো কাজ না করেই আগের ভর্তি পরীক্ষার পৌনে দুই লক্ষ টাকা তিনি পকেটে পুরেছিলেন, সেটা ফেরত দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিলাসবহুল জীবন-যাপনের সহায়তাকারী দোসরদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। ঢাকা ও পাবনার গণমাধ্যম কর্মীরা অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য অনুসন্ধানে মাঠে নামায় ভিসির চারপাশ ঘিরে থাকা কুতুবদের অনেকেই গা ঢাকা দেওয়া শুরু করেছেন।

Pabnamail24

অনেক চেষ্টা করেও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, যিনি কিনা অফিসিয়াল গাড়ি অধিকাংশ সময় ব্যবহার করেছেন পারিবারিক কাজে এবং বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে বিনোদনে। অন্যদিকে ভিসির অনিয়ম-দুর্নীতি, বিলাসিতা এবং ব্যর্থতার ভুঁড়ি ভুড়ি প্রমাণ যখন মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছে তখন কিছু চাটুকার শিক্ষক হালুয়া-রুটির আশায় তার পক্ষে সাফাই গাইতে মাঠে নেমেছেন।
যিনি কিছুদিন পূবেও ভিসির বিরুদ্ধে পাবনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তার চৌদ্দ গুষ্টি তুলে বদনাম করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে পর্যন্ত জালিয়াতি করে এই বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করে ধরা পড়ার খবর মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হয়েছিলো। হায়রে, জাতির দুর্ভাগ্য, এমন সব অপদার্থ আর পা-চাটা ব্যক্তিও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন। আবার নাকি সাথে ডক্টরেট ডিগ্রিও আছে। বউয়ের ভর্তি করানোর মতো এই ডিগ্রিও ভুয়ামি করে অর্জন করা কিনা কে জানে? সেটা নিয়ে পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম অন্য সময় অনুসন্ধানে নামবে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ^বিদ্যালয়ে আসলে হচ্ছেটা কি, এই নিয়ে আমাদের প্রতিবেদক কয়েকদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করে দশ পর্বে সাজিয়েছেন এই প্রতিবেদন। আজ পাবনা মেইল২৪.কম-এর পাঠকদের জন্য থাকছে প্রথম পর্ব : ‘ক্যালিকো কটন মিলের মতো ইট-কাঠ-লোহার আরেকটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পাস কি পাবনাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে!’

পাবনা শহরের পূর্বপাশের্^ মাত্র অর্ধ শতাব্দী আগে গড়ে উঠেছিলো ক্যালিকো কটন মিল। শ্রমিক, মালিক আর দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের পদচারণায় এক সময় মুখর থাকতো এর আঙিনা। অনেক লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক দিক থেকে এই কটন মিল পাবনাবাসীর জন্য এক আশীর্বাদ নিয়ে এসেছিল। সব ঠিক থাকলে গাজীপুর কিংবা নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্প-বাণিজ্য নির্ভর উন্নত অঞ্চল হিসেবে রাজাপুরও দেশব্যাপী পরিচিত হতে পারতো। কিন্তু বিধি বাম! পাবনাবাসীর কপালে সেটা জোটেনি।

শ্রমিক-মালিক অসন্তোষ, ধর্মঘট, কলহ-বিবাদ, রক্তারক্তি হতে হতে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেছে। কালের সাক্ষী হিসেবে কেবল কঙ্কালসার ভাঙা দালান-কোটা নিয়ে ক্যালিকো কটন মিল আজ হতাশাভরা স্মৃতির মিনার হিসেবে পাবনাবাসীর ললাটে ট্র্যাজেডির তিলক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

একুশ শতকে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির গবেসণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পাবনাবাসীর জন্য আশীর্বাদ নিয়ে আসে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। ১৯৯৬-২০০১ সালে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে পাশ করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় আইন। সেই আইনের বলে ২০০৮ সালে এই বিশ^বিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।

যেখনে ধানের জমি ছিলো সেখানে রাতারাতি গড়ে ওঠে সুরম্য সব অট্টালিকা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শুরু করে ছাত্র-ছাত্রী। আসে শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং কর্মাচারীও। এই বিশ^বিদ্যাবিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে পাবনা শহর এক নতুন প্রাণের উৎসবে মেতে ওঠে। শুধু কী উৎসব, দলাদলি, মারামারি, হানাহানী, কলহ-বিবাদ থেকে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পদ চোখের সামনে ভস্মীভূত হতে দেখেছে পাবনাবাসী।

পত্রিকার পাতা খুললেই চোখে পড়ে আজ ছাত্ররা ভিসিকে অবরুদ্ধ করেছে, কাল কর্মচারীরা তালা লাগিয়ে দিয়েছে, পরশু শিক্ষকরা এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছে। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়, সর্বশেষ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ এখানকার ভিসি হয়ে এসেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ এসেছেন ট্রেজারার এবং প্রো-ভিসি হয়ে। তাঁরা কেউ এসে বিশ^সেরা ভার্সিাটি বানানোর বুলি আবার কেউ উত্তরবঙ্গের অক্সফোর্ড বানানোর মুলো ঝুলিয়েছেন। অন্যদিকে আবার কেউ দুর্নীতির জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও দিয়েছেন। কিন্তু যাওয়ার সময় নিজের আখের গুছিয়ে নিয়ে পাবনাবাসীর হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিয়ে গেছেন। তাদের অযোগ্যতা, অদক্ষতা, সীমাহীন লোভ আর বিলাসিতার কারণে এখানে শিক্ষকদের দলাদলি বেড়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রুপিং বেড়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের হানাহানী বেড়েছে, সরকারের তালিকায় সেরা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এই বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের নাম পর্যন্ত উঠে এসেছে। ফলে আজ সংশয় জেগেছে, ক্যালিকো কটন মিলের মতো ইট-কাঠ-লোহার আরেকটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পাস কি পাবনাবাসীর জন্য অপেক্ষা করছে?

পাঠকের অবগতির জন্যে পরের পর্বে থাকছে- পাবনার বুকে এক টুকরো নওগাঁ এবং পাঁচ কুতুবের উত্থান! শীর্ষক প্রতিবেদন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!