শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন

খুনের মামলা নিয়ে গড়িমসি ॥ পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০
Pabnamail24

একটি খুনের পর পুলিশের তৎপরতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনা ১ আগস্ট ঈদের দিন অথচ মামলা রজু হয় ১০ দিন পর। খুন হয়েছেন সাঁথিয়া উপজেলার আমোষ গ্রামের কৃষক এনামুল শেখ। খুনের কারণ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ। জমির বিরোধ মীমাংসা হয় সাঁথিয়া পৌরসভায়। কিন্তু নিহত এনামুল জমি বুঝে পাননি। অর্থাৎ পৌর মেয়র তার শালিশের রায় বাস্তবায়ন করেন নাই। এভাবে গত হয় পাঁচ মাস। ঈদের দিন এই জমি নিয়ে কথা ওঠে। যারা জমিটি অধৈভাবে দখলে রেখেছিল তাদের সাথে প্রথমে কথা কাটাকাটি তার পর হামলার ঘটনা ঘটে।

দখলদার গ্রুপের হয়ে বিকাল ৫ টায় লাঠি, হাসুয়া, ফালা, রড ইত্যাদি নিয়ে আক্রমণ করে নেয়ামত শেখ, কামরুজ্জামান কন্নু, বাবুল, সমশের আলী, হাবিবুর, আলামিন, আনারুল, আলমাছ, সমশের আলী, মাসুদ রানাসহ কয়েকজন। হামলাকারীদের আক্রমনে গুরুতর আহত হন এনামুল হক শেখ ও আকরাম শেখ।

চিকিৎসার জন্য তাদের সাঁথিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের দ্রুত রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১১ আগস্ট হাসপাতালে মারা যায় এনামুল শেখ। আকরামের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন।
ঘটনা ঘটার পর অতিবাহিত হেেয়ছে ১৬ দিন। এ পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করতে পেরেছে মাত্র একজনকে। অপর আসামীরা দাপটের সাথে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

নিহত এনামুল শেখ এর ছেলে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের অনার্স (উদ্ভিদ বিদ্যা) এর ছাত্র হুমায়ূন কবির বলেন, “আমার বাবা নিহত হয়েছেন জমি সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা না হওয়ার কারণে এর জন্য দায়ী পৌর মেয়র। যদি শালিশের রায় বাস্তবায়ন হতো তা হলে খুনের ঘটনা হতো না।”

এনামুল হক এর মেয়ে মোছা.বিথি খাতুন এবার এসএসসি পাশ করেছে। বিথি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা এখন এতিম হয়ে গেলাম। আমি আমার পিতার হত্যার বিচার চাই।’ এনামুল শেখের স্ত্রী সীমা খাতুনের কান্না থামেনি। সে পাগলপ্রায়।

এদিকে একটি দালাল চক্র দিনের আলোতে খুনের এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে তদবীর শুরু করেছে। খুনের মামলার আসামীদের রক্ষা করার জন্য সাজানো পাল্টা মামলা করার চেষ্টা করতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করলেন নিহত এনামুল শেখ এর ছেলে হুমায়ূন শেখ। হুমায়ূন আশঙ্কা করছেন, প্রতিপক্ষের গবাদিপশু, হাঁস, মুরগী লুটের মিথ্যা মামলা করতে পারে আসামী পক্ষ।

সরেজমিনে আমোষ গ্রাম ঘুরে দেখা ও জানা গেল মোট ৫৭ টি গরু সাঁথিয়া পৌর মেয়র ও ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্তকারী দারোগা (ওসি তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বলেছেন, এই গরুর সংখ্যা ৪০টি।

বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুর রউফ বলেন, গ্রামাঞ্চলে কোন খুনের ঘটনা ঘটলে পাল্টা মামলা রজু হয়। পাল্টা মামলার কারণে যিনি হত্যার শিকার হন তার পরিবার ন্যায় বিচার পায় না।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, আসামীদের গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!