মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

অধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে পাবিপ্রবির শিক্ষকরা, সদ্যবিদায়ী উপাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা, সমন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ, ২০২২
Pabnamail24

মেয়াদ শেষে কর্মস্থল থেকে বিদায় নেবার পরেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম. রোস্তম আলীর সাথে বিপক্ষ গ্রুপের শিক্ষকদের রেষারেষি বন্ধ হয়নি। দুর্নীতির নানা অভিযোগে বিতর্কিত পাবিপ্রবির সাবেক এই উপাচার্যের সঙ্গে শুরু থেকেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর আওয়াল কবীর জয়ের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি অংশ। উপাচার্য এম রোস্তম আলীর পুরো মেয়াদেই এই দুই গ্রুপের শিক্ষকদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে অস্থির হয়েছে ক্যাম্পাস, নষ্ট হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ। বিশ^বিদ্যালয়ে সেশনজট, একাডেমিক র‌্যাংকিংয়ে অবনতিতে ক্ষুব্ধ বিব্রত সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ, বৃহস্পতিবার সদ্য বিদায়ী উপচার্যের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে পঞ্চাশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন সাবেক প্রক্টর আওয়াল কবির জয়। তবে, উপাচার্যের মেয়াদকালে আওয়াল কবীর জয়ের এক স্বজনকে অবৈধ ভাবে নিয়োগ স্থায়ী না করায় প্রতিশোধ নিতেই মামলা করা হয়েছে দাবী অধ্যাপক রোস্তম আলীর।
আওয়াল কবীর জয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ (১) ও অ্যাডভোকেট চৌধুরী সুলতানা রাজিয়া টুলটুলি জানান, বৃহস্পতিবার পাবনার আমলী আদালত-১ এ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে দ-বিধির আ্ইনের ৫০০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেন।
বাদীর আরজি সূত্রে জানা যায়, আসামী অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী, পিতামৃত মাবুদ আলী (বর্তমান ঠিকানাÑঅধ্যাপক, ফলিত রসায়ন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালে গত ২৩/১২/২০১৯ তারিখে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ড. আওয়াল কবির জয়কে রেজিস্ট্রার কর্তৃক চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানোর পরে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় প্রবেশ করতে বাধা দেন এবং কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ব্যতীত বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত কমিটির নামে নানাভাবে হয়রানি করেন এবং দীর্ঘ সময় তার রিপোর্ট প্রদান না করে উপাচার্যের মেয়াদ শেষের আগে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যান। এতে ড. আওয়াল কবির জয়ের সামাজিক, ব্যক্তিগত এবং প্রশাসনিক সম্মান হানী হয়েছে এবং সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। উক্ত প্রকার মানহানী ঘটায় উপাচার্য রুস্তম আলী ড. আওয়াল কবির জয়ের ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি করে দ-বিধির ৫০০ ধারায় গুরুতর অপরাধ করেছেন। আসামী এতকাল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আসীন থাকায় বাদীর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে বিধায় মামলা করতে দেরি হয়েছে । শুনানী শেষে আদালত মামলা আমলে নিয়ে সমন জারি করে।
আওয়াল কবির জয় বলেন, ‘উপাচার্য রোস্তম আলী ক্ষমতার অবব্যহার করে ভুয়া সব অভিযোগ তুলে আমাকে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ঢুকতে দেননি এবং কোনো কারণ দর্শানো ব্যতীত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রেখে আমার ব্যক্তিগত, চাকরি, এবং সামাজিক ক্ষতি করেছেন। বিনা কারণে আমাকে বার বার হয়রানি করেছেন। আশা করি আদালতে ন্যায় বিচার পাবো।
মামলার বিষয়ে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী বলেন, পাবিপ্রবিতে আওয়াল কবীর যোগদানের পর থেকেই সিন্ডিকেট করে বিশ^বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ, ভর্তি বাণিজ্য, শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বানিজ্যের হর্তাকর্তা বনে যান। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি গোপনে তদন্ত করে এর প্রমাণ পেয়ে প্রশাসনিক শৃংখলা ফেরাতে তাকে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সকল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার মেয়াদকালের পুরোটা সময় জুড়ে প্রভাবশালীদের বিভ্রান্ত করা, শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনের নামে বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার নেতৃত্ব দিতেন তিনি। এরপরেও আমাকে সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে না পেরে নানা অপবাদ দিয়েছেন। এখন মেয়াদ শেষেও হয়রানি করতে মামলা করেছেন।
অধ্যাপক রোস্তম আলী আরো বলেন, মামলার বাদী আওয়াল কবীরের শিক্ষক পদে নিয়োগই অবৈধ। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে সান্ধ্য কোর্সে মাষ্টার্স সম্পন্ন করে বিতর্কিত প্রক্রিয়া নিয়োগ নিয়েই প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য, সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান ও হলের প্রভোস্ট থেকে শুরু করে এহেন কোন দায়িত্ব নেই যে তিনি পালন করেন নাই। এক কথায় তিনি বিশ^বিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন।
তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেবার পরেও বিশ^বিদ্যালয়ে অস্থিরতা তৈরী করে আমাকে জিম্মি করেন। নিজ স্বজনের চাকুরি দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে সে নিয়োগ স্থায়ী স্থায়ী করতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলাটি করেছেন বলে দাবী করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ^বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিক্ষক নেতা ড. কামরুজ্জামান, ড. সাইফুল ইসলাম, ড. হাবিবুল্লাহ, আওয়াল কবীর জয়, আব্দুল আলিম, ড. মুশফিকুর রহমান, হাসিবুর রহমান বিশ^বিদ্যালয়ের চিহ্নিত কিছু সুবিধাবাদী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া। উপাচার্যদের জিম্মি করে নিজ স্বার্থ হাসিল করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। অতীতে একই সাথে বিশ^বিদ্যালয়ে লুটপাট কার্যক্রম চালালেও অধ্যাপক রোস্তম আলী যোগদানের পর আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যান তারা। মূলত, দূর্ণীতিবাজ এসব শিক্ষক নেতার কারণেই প্রতিষ্ঠার এক যুগেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি বিশ^বিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দূর্নীতিমুক্ত করে, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফেরানোর দাবি সাধারণ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!