শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে অপেক্ষা তফসিলের, মনোনয়ন যুদ্ধে বিভক্তি আ.লীগে

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২০
Pabnamail24

পাবনা-৪ উপ-নির্বাচনে অপেক্ষা এখন শুধুমাত্র তফসিলের। মনোনয়ন যুদ্ধে বিভক্তি দেখা দিয়েছে আওয়ামীলীগে। আওয়ামী লীগের প্রবীন রাজনৈতিক শামসুর রহমান শরীফের মৃত্যুর পর প্রাচীন ও উত্তর জনপদের গুরুত্বপূর্ণ পাবনা-৪ আসনে দলটি বহুদিধাবিভক্ত হয়ে পরেছে।

এখানে আওয়ামীলীগে প্রায় দেড় ডজন প্রার্থী থাকায় ভোটার ও ছোট ছোট নেতারা বহুবিধ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে। ভোটাররা নিজেদের নেতার পক্ষে প্রতিদিনই ভার্চুয়াল প্রচারণা চালাচ্ছে। নানা রকম সাফাই গেয়ে প্রচার প্রচারণায় নিজের পছন্দের নেতার গুণকীর্তিন করে চলেছেন।

গত ২ রা এপ্রিল শুণ্য হওয়া এ আসনটির উপ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই কোন প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা আর অপেক্ষা।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এই নির্বাচনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফের উত্তরসূরী কে হচ্ছেন কার মনোনয়ন পাওয়া উচিৎ, কে কতোটা জনপ্রিয়, কার কেন্দ্রীয় লবিং মজবুত তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ১৬ জন ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে জোড় তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এ লক্ষ্যে প্রার্থীরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় নিজেদের পক্ষে অনেক কিছু লিখছেন। তাদের এমন প্রচারণায় দল দুটির নেতাকর্মীরাও পড়েছেন নানা জটিলতায়। এরই মধ্যে নিজের পক্ষে মনোনয়ন আনতে লবিংও গ্রুপিং।

ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে এ আসনের আওয়ামীলীগ বতমানে দ্বিধা বিভক্ত। কর্মীর চেয়ে নেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং সবাই দলটির টিকেট পেতে তৎপর থাকায় ভোটাররা পড়েছেন বেকায়দায়। ফলে নিজেদের পছন্দের নেতাকে সমর্থন জানাতে গিয়ে মূলতঃ দলটির নেতা কর্মীদের মধ্যে বহু বিভক্তি তৈরি হয়েছে, যার সুফল ঘরে তুলতে চায় বিএনপি।

এই আসনে ডিলু পরিবার থেকে ৫ জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত দুই জন মনোনযন চাইতে পারেন বলে পারিবারিক সুত্র নিশ্চিত করেছেন।

১৯৮৬ সালে জাপা থেকে নির্বাচিত সাংসদ ২০০১ সালে আ.লীগে যোগদান করা পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস এ আসনের শক্ত প্রার্থী হলেও তিনি ভিন্ন দল থেকে আসার কারনে এবং তার নির্বাচন করার মত অর্থনৈতিক ভিত্তি না থাকায় তিনি মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ধরে নিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া কেন্দ্রীয় আ.লীগে তার শক্ত কোন অবস্থান বা পরিচিতি নেই বলে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন বলে অনেকেরই ধারনা।

এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকায় সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক নজরুল ইসলাম রবির নাম রয়েছে। একজন সরকারি আমলা হিসেবে দলীয় প্রধানের কাছে তার ব্যক্তি পরিচিতি থাকলেও দলের মনোনয়ন পাওয়ার মত এলাকায় তার ব্যাপক জনসমর্থন আছে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।

এছাড়া অপর দুজন প্রাথীর নাম এলাকায় প্রচারণায় থাকলেও কেন্দ্রের দৃষ্টিতে তাদের দলীয় টিকেট প্রাপ্তির খুব একটা সুযোগ নেই বলেই বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাবেক ডুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় মৎসজীবী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পর্ষদের সদস্য আব্দুল আলীমের নাম। তার এই এলাকায় কোন প্রকার ভিত্তি নেই বলেই জানান স্থানীয়রা। তবে তিনি টাকা পয়শা খরচ করছেন বলেও কেন্দ্রে পরিচিতি আছে।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদের পর পরই পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের তফসীল ঘোষণা করা হবে। তবে সেপ্টেম্বরের মাসের শেষে এই আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!