শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পাবনায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল, ঝড়ো বাতাস, সড়কে গাছ পড়ে বন্ধ যান চলাচল সুজানগরে আবারো সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-গ্রেপ্তার ১, আইন শৃংখলা নিয়ে প্রশ্ন ! আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঈশ্বরদীর রানা সরদারের প্রার্থীতা বাতিল ওয়ারেন্টভূক্ত মামলায় গ্রেফতার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, ৬ জন আহত কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীর স্ত্রীসহ আহত ৩ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরে নির্বাচিত হলেন যারা সুজানগরে নিয়ন্ত্রণহীন লরি চাপায় ২ যুবক নিহত ভাঙ্গুড়ায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে জরিমানা চরাঞ্চলে আলো ছড়াচ্ছে তাসকিনা সিনথী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

চালকের সর্তকতায় বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল, শতাধিক ট্রেনযাত্রীর রক্ষা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ মে, ২০২৪

রেললাইন ভাঙ্গা দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী লাল গামছা উড়িয়ে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়ায় আর ট্রেন চালকদের সর্তকতার কারণেই মারাত্মক বড় ধরণের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল ঈশ্বরদী-রহনপুরগামী ৫৭ নং আন্তঃনগর কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে কয়েক শতাধিক ট্রেনযাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। বুধবার (৮ মে) সকাল ৮ টায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় ঈশ্বরদী-রাজশাহী রেলরুটের নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর রেলস্টেশন ঢোকার মূহুর্তে এ ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরদী লোকোমোটিভ ও ডিজেল কারখানার সহকারী লোকো মাষ্টার (এএলএম) সাইফুল ইসলাম সবুজ জানান, বুধবার (৮ মে) সকাল ৭ টায় ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ৫৭ নং আন্তঃনগর কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেন রহনপুরের উদ্দ্যেশে ছেড়ে আসে। ট্রেনটি নাটোরের আবদুলপুর রেলস্টেশন অতিক্রম করে রাজশাহী অভিমুখে যাওয়ার সময় সকাল ৮টার দিকে ট্রেনটি লোকমানপুর রেলস্টেশনে প্রবেশের সময়ই দেখা যায়, কয়েকজন এলাকাবাসী লাল গামছা ধরে রেললাইনের পার্শে দাড়িয়ে রয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিক টের পেয়ে লোকোমাষ্টার (এলএম) আজিজুর রহমান (ট্রেনের চালককে) ট্রেন থামিয়ে দিতে বলি। এ সময় সেখানে দেখতে পাওয়া যায় ঈশ্বরদী-রাজশাহীর মধ্যকার লোকমানপুর স্টেশনের ১ কিলোমিটার দূরে ১০ ইঞ্চি রেললাইন ভাঙ্গা, স্লিপার ভেঙ্গে চুরে রয়েছে।

সহকারী লোকো মাস্টার (এএলএম) সাইফুল ইসলাম সবুজ আরও জানান, ৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেনটি লোকমানপুর রেলস্টেশনে প্রবেশের সময় বিষয়টি বুঝতে পেরেছি, যে কোন দূর্ঘটনার থেকে রক্ষা করার জন্য ট্রেনের সামনে লাল গামছা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ট্রেনটি থামিয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের কন্ট্রোল অফিসে অবগত করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী কৃষক জাফর আলী জানান, বুধবার (৮ মে) সকাল পৌনে ৮ টার দিকে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ননস্টপ বনলতা এক্সপ্রেস লোকমানপুর স্টেশন অতিক্রম করার সময় বিকট একটা শব্দ শুনি। এ সময় রেললাইন ধরে স্থানীয় দুইজন কৃষক হেঁটে হেঁটে দেখছিলেন, যে কোথায় আওয়াজ হলো। রেললাইন কী কোথাও ভেঙ্গে গেল কিনা? এসময় লোকমানপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে ভাঙ্গা দেখতে পায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে কমিউটার ট্রেন আসছিল। এটা দেখে দুইজন কৃষক তাদের কাছে থাকা গামছা টাঙিয়ে দিয়ে দাড়িয়ে থাকেন। কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক লাল গামছা দেখে ট্রেনের চালক থামিয়ে দেন। পরে ভাঙা রেললাইনের ওপর বালুর বস্তা ফেলে ট্রেন পার করা হয়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ বীরবল মন্ডল জানান, রেললাইনে অহরহ ভেঙ্গে যেতে এটা কিন্তুু স্বাভাবিক তবে রেললাইনের ফিসপ্লেট বাঁধা থাকলে ট্রেনের গতি কমিয়ে ট্রেন চালালে কোন দূর্ঘটনার কোন সম্ভবনা থাকে না। আর ট্রেন যদি ৮০ কিলোমিটার গতিতে পারাপার হতো তবে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতো। খবর পেয়ে সেখানে তাৎক্ষণিক রেলওয়ে প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল উপস্থিত থেকে ট্রেনের গতি কমিয়ে কমিউটার এক্সপ্রেস পারাপার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রকৌশলীরা বর্তমানে ভাঙ্গা রেললাইন তুলে নতুন রেল ও স্লিপার বসানোর কাজ শুরু করেছে রেলওয়ের কর্মচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচলে কোন ব্যাঘাত ঘটেনি।

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের পরিবহণ কর্মকর্তা (ডিটিও) আনোয়ার হোসেন জানান, পাকশী কন্ট্রোল অফিসকে কর্তব্যরত ট্রেনের লোকোমাষ্টার (এলএম) চালক সকাল ৮ টায় অবগত করে। পরে ট্রেনের গতি কমিয়ে ১০ কিলোমিটার গতিতে নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা বিলম্বে কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহীর দিকে ছেড়ে যায়। এ রুটে বর্তমানে সকল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার জানান, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে আবদুলপুর জংশন-রাজশাহী রেলরুটে রেললাইন স্থাপন করা হয়। একটি রেললাইনের আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ থেকে ২৫ বছর। কিন্তুু এই রুটে রেললাইনের বয়স ৫০ অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এই রেলরুট দিয়ে আন্তদেশীয় মালবাহী ট্রেনসহ আন্তঃনগর, মেইল লোকাল ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে রেলরুটটি নানা সমস্যয় জর্জরিত। এই রেলরুটের ট্রেনগুলো গতি কমিয়ে চলাচল করানো হচ্ছে, এতে রাজশাহী থেকে চলাচলকারী সকল ট্রেন নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে চলাচলের কারণে শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে, আর প্রায় ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। সচেতন কিছু জনসাধারণের কারণে প্রায় ছোট-বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুতই পুরোনা রেললাইন সরিয়ে নতুন রেললাইন স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..