শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
পাবনায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল, ঝড়ো বাতাস, সড়কে গাছ পড়ে বন্ধ যান চলাচল সুজানগরে আবারো সংঘবদ্ধ ধর্ষণ-গ্রেপ্তার ১, আইন শৃংখলা নিয়ে প্রশ্ন ! আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ঈশ্বরদীর রানা সরদারের প্রার্থীতা বাতিল ওয়ারেন্টভূক্ত মামলায় গ্রেফতার ভাঁড়ারা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, ৬ জন আহত কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীর স্ত্রীসহ আহত ৩ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরে নির্বাচিত হলেন যারা সুজানগরে নিয়ন্ত্রণহীন লরি চাপায় ২ যুবক নিহত ভাঙ্গুড়ায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে জরিমানা চরাঞ্চলে আলো ছড়াচ্ছে তাসকিনা সিনথী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

কবরস্থানের নাম করণ নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০২৩

কবরস্থানের গেটে নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। পাবনা বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙ্গা গ্রামের কবরস্থানের নাম করণ নিয়ে প্রায় এক বছর বিরোধ চলে আসছে, এ নিয়ে সংঘষের আশঙ্কায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নাম করণ নিয়ে হয়েছে একাধিকবার সালিশি বৈঠক। সালিশি রায় মানছেন না নলভাঙ্গা গ্রামের লোকজন বলে দাবি দমদমা গ্রামের মানুষের। এ ঘটনায় গত (৩০ সেপ্টেম্বর) শনিবার সকালে দমদমা গ্রামের লোকজন কবরস্থানের মেইন গেটে “দমদমা কবরস্থান” লেখা একটি সাইনবোড লাগিয়ে দিয়ে যায়। ঐ সাইনবোড কে বা কাহারা ছিড়ে ফেলে। পরে রবিবার রাতের কোন এক সময় কে বা কাহারা গেটের টাইলস্ দিয়ে নলভাঙ্গা কবরস্থান নাম ফলকটি রাতের কোন এক সময় ভেঙে ফেলে। দুই গ্রাম বাসি একে অন্যদের দোষারফ করছে।

জানা যায়, নলভাঙ্গা গ্রামের কবরস্থানে নলভাঙ্গা, খাকছাড়া-দমদমা, আংশিক চাকলা গ্রামের মানুষকে কবরস্থ করে আসছে বহু বছর আগে থেকেই। এতে কারো কোন দিধাদন্ধ ছিল না। কিন্তু বছর খানেক আগে কবরস্থানের মেইন গেটে নলভাঙ্গা কবরস্থান লেখার পর থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। পাশের দমদমা গ্রামের কিছু মানুষ দাবি করে আসছে কবরস্থানের নাম দিতে হবে নলভাঙ্গা-দমদমা কবরস্থান। এতে নলভাঙ্গা গ্রামের মানুষ তাতে রাজি না। তাদের দাবি এখানে তাদের বাপদাদার দানের সম্পত্তিতে করবস্থান হয়েছে যা রেকর্ড মূল্যে প্রায় দশ বিঘা নলভাঙ্গার গ্রামের মানুষের। এখানে দমদমা গ্রামের মানুষের দানের সম্পত্তি অল্প সেটুকু কবরস্থানের এরিয়ার বাইরেই রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার হয়েছে সালিশ। সর্বশেষ গেল মাসে চাকলা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ হয়। সালিশে ইউপি চেয়ারম্যান সহ গন্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গ রায় দেন নলভাঙ্গা-দমদমা দুই গ্রামের নামেই কবরস্থানের নাম করণ করা হবে এবং কবরস্থান পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে নলভাঙ্গা গ্রামের কোন একজনকে সভাপতি ও দমদমা গ্রামের কোন একজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হবে এতে আপত্তি জানান নলভাঙ্গা গ্রামবাসি।

স্থানীয়রা জানান, কবরস্থান নিয়ে রাজনীতি এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই গ্রামের কতিপয় কয়েকজন লোক অহেতুক ঝামেলার সৃষ্টি করছে। দ্রুত সমাধান হওয়ার দরকার না হলে বড় ধরনের ঝামেলা হতে পারে।
নলভাঙ্গা গ্রামের কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও চাকলা ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মনি প্রামানিক বলেন, আমাদের গ্রামের কবরস্থানে অন্য গ্রামের নাম আমরা কেন যুক্ত করবো? আমরা তো কোন গ্রামের মরা মানুষ কবর দিতে মানা করছি না। আমাদের বাপদাদার আমল থেকে নলভাঙ্গা কবরস্থান নামেই পরিচিত তাছাড়াও আমাদের মানুষেরই দশ বিঘা জমি। দমদমা গ্রামের মানুষের যে জায়গা আছে তারা সেটুকু নিয়ে আলাদা করে কবরস্থান করুক। এবিষয়ে আমরা তো চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছিলাম আমাদের জায়গা আলাদা করে দিতে।

দমদমা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকেই তিন চারটি গ্রামের মানুষ ঐ কবরস্থানে আত্মীয় স্বজনদের কবর দিয়ে আসছি এতে কারো কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই কবরস্থানের গেটে তারা শুধু নলভাঙ্গা করবস্থান নামে নাম করণ করে ফেলে। এতে আমাদের গ্রামের মুরব্বিরা আপত্তি জানায়। আমরা তাদের বিষয়টি জানালে তারা রাজি হয় না। এরপর অনেক সালিশ দরবার হলেও তারা শালিশের রায় মানে না। তাই আমরা দমদমা কবরস্থান সাইনবোর্ড লাগাই ছিলাম সেটা কে বা কাহারা ছিড়ে ফেলেছে। আমাদের দাবি দুই গ্রামের নামেই নামকরণ করা হোক।

চাকলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস সরদার জানান, আমার ইউনিয়নে কয়েক গ্রামের মাতব্বরদের সমন্নয়ে সালিশ করে দিছি কিন্ত নলভাঙ্গা গ্রামের মানুষ সে রায় মানে নাই। শুনলাম দুই গ্রামের কবরস্থানের নেম প্লেট ছিড়াছিরি ভাংঙ্গা ভাঙি হয়েছে। আমি আবারও দুই গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে দেখি সমাধান করা যায় কি না। তা না হলে তো বড় ধরনের ঝামেলার সৃষ্ঠি হবে।

বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. হাদিউল ইসলাম ঘটনার সত্যত্যা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, ইউএনও মহোদয় ও অবগত আছেন। বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। যেহেতু এটা ধর্মীও প্রতিষ্ঠান সে কারনে সমাধানের জন্য কোন গ্রামের নামে নাম করন না করে ইসলামিক কোন নাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল সেটাও নলভাঙ্গা গ্রামের মানুষ মানে নি। তারা তাদের গ্রামের নামই রাখতে চায়। এ বিষয়ে কোন ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না আইনের আওতায় আসতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..