বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১২:১১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আব্দুল্লাহ-গালিব সৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলায় পাবনা ইগলস জয়ী পাবনায় আদালত চত্বর থেকে সাক্ষী অপহরণ, বাধা দেয়ায় লাঞ্ছিত ৩ আইনজীবী চলনবিলে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা বোরো রোপণে ব্যস্ত ঈশ্বরদীতে শিশু হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন চলনবিলাঞ্চলে শীতে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ চাটমোহরে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে দুধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচনী সংঘাতে এলাকাছাড়া পরিবারের সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে পাবনায় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পাবনায় পদ্মা নদীর বুকে সেই রাস্তা অপসারণ করলো প্রশাসন রূপপুর প্রকল্পে থামছে না চুরি, এবার ক্যাবল চুরি

শুভ জন্মদিন, পাবনাবাসীর সুপারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত শনিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২১
Pabnamail24

মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান, পাবনার জনপ্রিয় জনবান্ধব পুলিশ সুপার। ছিলেন দেশের সবচেয়ে দারিদ্রপ্রবণ কুড়িগ্রামের অতি সাধারণের একজন হিসেবে। উত্তরের সহজ-সরল জনপদের মানুষকে তিনি কতটা আপন করে নিয়েছিলেন, সেই মূহুর্তগুলোর সাক্ষী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সীমান্তবর্তী জনপদ কুড়িগ্রামে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন কঠোর হাতে দমন করেছিলেন, আবার করোনা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমনের সময় সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে নিজের স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও মাঠে নেমেছিলেন, এমনকি সেটা পবিত্র ঈদের দিনে করোনা অতিমারি বা বন্যা দুর্যোগে ত্রাণ হাতে নিয়ে পৌছে যেতেন কুড়িগ্রামের অভাবগ্রস্ত মানুষের ঘরে ঘরে। শীতার্ত মানুষের উষ্ণতায় নিজের সরকারি দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে হাত বাড়ালেন মনিপুর স্কুল কিংবা ঢাকা কলেজের বন্ধুদের কাছে। তাদের সহযোগিতায় হাড় কাঁপানো শীতে কয়েক হাজার মানুষের ঘরে পৌঁছে দিলেন শীতবস্ত্র। বিপন্ন বা শীতার্ত মানুষই নয় কুড়িগ্রাম উলিপুরের বিশেষ শিশুরা পেয়েছে তার কাছে পিতৃস্নেহ। দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ তার কাছে পেয়েছে সামাজিক মর্যাদা।

ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ তিনি এসেছেন পাবনার আলোর ফেরিওয়ালা হয়ে, যখন এই জনপদের প্রতিটি চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ঘোর অন্ধকারের ছাপ।
এই শহরে এসেই তিনি বদলে দিলেন সুদীর্ঘকাল থেকে চলে আসা এক অনিরাপদ অভ্যাস বা আইন না মানার অপসংস্কৃতিকে। হেলমেট ছাড়া মোটরবাইক বাইক চালানো বা তিনজন মোটরবাইকে চড়া রোধ করলেন নিজে মাঠে নেমে, তার ইতিবাচক মোটিভেশন দিয়ে। তারপরের গল্পটা পাবনা তথা সমগ্র বাংলাদেশে সমাদৃত।

“তুই এখনো বাড়ীতে কি করিস? যা গিয়ে ভোট দিয়ে আয়, ভোট কেন্দ্রে কোন সমস্যা নাই। আমার জীবনে কোনদিন এতো উৎসবমুখর নির্বাচন দেখি নাই” পঞ্চাশোর্ধ মা যখন নতুন ভোটার হওয়া সন্তানকে এমন কথা বলেন। সেই মায়ের আত্মতৃপ্তির গল্পের সফল রুপকার তিনি। করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ঠেউ আঘাত হানলে পাবনার সকল সামাজিক সংগঠনগুলোকে এক প্লাটফর্মে এনে সচেতনতা সৃষ্টি করলেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া রোধ করলেন। এই পাবনার প্রত্যন্ত জনপদে চায়ের স্টলের আলোচনাতেও তিনি থাকেন ইতিবাচকতার বা আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে, আবার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তারুণ্যের আড্ডায় বিশাল অংশ জুড়ে থাকে কর্মকাণ্ডগুলো। সেই আড্ডা থেকেই তাকে ঘিরে কিছু তরুণ স্বপ্ন বুনে বিসিএস দিয়ে পুলিশ ক্যাডারে যেতে।

সুজানগরের সেই অতিথি পাখির আপন নীড়ে ফেরার ব্যবস্থা করা কিংবা ঈশ্বরদীর জুতা সেলাইয়ের দোকানে সুনিল দাসের মাথার উপরের ভঙ্গুর ছাতার ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখে নতুন ছাতার ব্যবস্থা করা কিংবা চাটমোহরের সেই বাচ্চার বাবার গল্পগুলো এবং পাবনাতে আসার পরেও কুড়িগ্রামের শীতার্ত হতদরিদ্র মানুষের শীতের পোশাক বা বিশেষ শিশুদের উপহার পাঠানোটা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে বলেই পৃথিবীটা টিকে আছে।

সম্প্রতিকালে যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলো দেশব্যাপী। তখন পাবনাতে সেই চেষ্টা রুখে দিলেন তিনি। মধ্যরাতে নিজে ছুটে গেলেন পাবনা জেলার সীমান্তবর্তী বেড়া উপজেলায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের দমন করলেন কঠোর হাতে।

সম্প্রতি পাবনার ১৯২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি যে লেখাটি লিখলেন, সেই লেখাটির প্রতিটি শব্দের দ্বারা তিনি পাবনাবাসীর হৃদয়ের মণিকোঠায় আবারও জায়গা করে নিলেন গভীরভাবে। লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি পাবনাতেই জন্ম নেওয়া এক কীর্তিমানব। এত অল্প সময়ে কেউ একটি জনপদকে এত আপন করে নিতে পারে!

অল্প কিছুদিন আগেও প্রত্যন্ত এই জনপদের মানুষ জানতো জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ একজন কর্মকর্তা মানেই সাধারণের ধরা-ছোঁওয়ার বাইরে। অথচ এখন হঠাৎই তার দেখা মেলে পৌর এলাকার বাইকার্স ধাঁবা কিংবা কুলনিয়ার ছোলা-পেয়াজুর দোকানের মতো অতি সাধারণ পাবলিক প্লেসে।

কুড়িগ্রামে থাকতে মাত্র ১০৩ টাকায় ৩৩ জন তরুণকে এবং এবার দেখলাম পাবনাতে মাত্র ১০০ টাকায় ৫৩ জন তরুণকে শুধুমাত্র মেধা দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মানবসেবার মহান ব্রতের শপথে পুলিশে চাকুরি দিয়েছেন তিনি।‌

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রংপুর রেঞ্জে দুইবার সেরা পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন আবার পাবনাতে এসেও তিনি দুইবার রাজশাহী রেঞ্জে সেরা পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন। এক সময়ের মৃতপ্রায়, আজকের স্বয়ংসম্পূর্ণ পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ পাবনা’র সফল রুপকার অকাল প্রয়াত অধ্যক্ষ বাবুল আকতার স্যারকেও স্মরণে রাখতে ভুলেননি তিনি। অধ্যক্ষ বাবুল আকতার স্যারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তার নামে নির্মাণ করলেন পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ পাবনা’র ‘অধ্যক্ষ বাবুল আকতার গেইট’।

তিনি পাবনা পুলিশ লাইন্সের ক্যান্টিনকে এমনভাবে সাজালেন, ছবিগুলো দেখে মনে হয় এটি সাধারণ কোন ক্যান্টিন নয়, এটি অত্যাধুনিক কোন রেস্তোরাঁ। টিনের ছাপরার নিচে দুইটা চেয়ারের সামনে একটা আয়না রাখা সেলুন তিনি নিয়ে গেছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক কক্ষে।

পাবনার মানুষ ও প্রকৃতির অতি আপনজন হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। সত্যি বলতে আমরা পাবনার মানুষ তার সাথে আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছি। আজকে একথা বলতে দ্বিধা নেই, এই শহরের একমাত্র সেলিব্রেটি তিনি।মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম মহোদয় শুধু আমাদের পুলিশ সুপার নন, তিনি আমাদের সুপার হিরোও বটে!

এই মানুষটিকে পেয়ে আমরা পাবনার মানুষ অত্যন্ত গর্বিত, সেই মানুষটির আজকে জন্মদিন।
সুস্থ শরীরে দীর্ঘায়ু লাভ করুন, আমৃত্যু বিপন্ন মানবতার ভরসার বাঁতিঘর হিসেবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে অনেক ভালো থাকুন, অনাগত আগামীর জন্য শুভকামনা। এটাই আজকের দিনে আপনার জন্য প্রার্থনা। পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম এর পক্ষ থেকে আপনাকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

খন্দকার আল আনিম পরশ, প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!