শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ী শাকিল হত্যাকান্ডে দেবর ভাবির পরকীয়া: তারাই এ ঘটনায় জড়িত

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ২ জুন, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ হত্যাকান্ডের মূলরহস্য উদঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার বেলা ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান, বিপিএম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ মাসুদ আলম, ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঈশ্বরদী সার্কেল মোঃ ফিরোজ করিব পাবনার নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাদিউল ইসলাম সহ পুলিশের একটি চৌকশ টিম কাজ শুরু করলে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঘটনাটি উদঘাটনসহ ০২জন আসামীকে গ্রেফতার করেন।

তিনি জানান, মৃত শাকিল আহমেদ’র স্ত্রী মিম খাতুন এর সাথে শাকিলের ছোট ভাই সাব্বির আহমেদ এর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এছাড়া শাকিলের সাথে শাকিলের পিতা-মাতা ও ভাইয়ের জমিজমা এবং পুকুরে মাছ চাষের ভাগাভাগি লইয়া বিরোধ তৈরী হওয়ায় শাকিল একই বাড়ীতে অবস্থান করে আলাদা ভাবে সংসার শুরু করে। শাকিল তার স্ত্রী মিম ও সাব্বির এর পরকীয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাকিলের স্ত্রী মিমকে তাহার দেবর সাব্বির এর সাথে কথা বলিতে নিষেধ করে দেয়। কিন্তু সাব্বির গোপনে একটি মোবাইল ফোন মিমকে দেয় যা মিম লুকিয়ে রেখে শুধু মাত্র সাব্বির এর সাথেই গোপনে কথা বলতো এবং প্রায় সময়ে তারা বাড়ী ফাঁকা পেলে ঘনিষ্ট ভাবে মিশতো। সাম্পতিক সময়ে আরো কিছু বিবাদকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে শাকিল গত ১৯মে তার স্ত্রীকে নিয়ে ঈশ্বরদী থানাধীন রূপনগর কলেজপাড়া মহল্লায় আহসান হাবীব এর বাড়ীর ২য় তলায় ভাড়াটিয়া হিসাবে উঠে। এতে মিম এবং সাব্বির একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়ায় তারা উভয়ই শাকিলের প্রতি মনে মনে ক্ষিপ্ত হয় এবং শাকিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। উক্ত পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শাকিলের স্ত্রী মিম ২৭ মে রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় পানির সঙ্গে তিনটি ঘুমের ট্যাবলেট গুড়া করে মিশিয়ে শাকিলকে খাওয়ায়। ২৮ মে শাকিল সারাটা দিন ঘরের মধ্যে শুধু ঘুমাইতে থাকে। সাব্বির ২৮ মে সন্ধ্যার পর শাকিলের ভাড়া বাসায় যাবে মর্মে পূর্বেই মিমকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলো। ঐদিন সন্ধ্যার পরে সাব্বির গোপনে শাকিলের বাসায় যায়। তখনো শাকিল ঘুমের ঔষধের প্রভাবে খাটের উপর শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। সাব্বির এবং মিম পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শোফাসেট এর কুশন বালিশ নিয়ে শাকিলের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে শাকিলকে ঘুমন্ত অবস্থায় নাকে-মুখে বালিশ চাপা দিয়া শ্বাসরোধ করিয়া হত্যা করে।শাকিলকে অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খাওয়ানোর ফলে শাকিল তেমন কোন প্রতিরোধ করতে পারেনি।

তিনি আরো জানান,আসামী মিম ও সাব্বির ভিকটিম শাকিলকে হত্যা করে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামী সাব্বির ওড়না দিয়ে মিম এর দুই পা, শাকিলের পাঞ্চাবী দিয়ে মিম এর দুই হাত এবং মিমের পরিহিত ওড়না দিয়ে মিম এর মুখ বেঁধে বাহিরের দরজার নিকট রেখে ঘরের দরজাটি বাহিরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়। এ সময় সাব্বির মিমের সঙ্গে গোপনে কথা বলার জন্য তাকে দেয়া মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায় এবং বাসার মেইন গেইটের চাবি বাসা থেকে নিয়ে গিয়ে মেইন গেইট খুলে বের হয়ে যাওয়ার সময় চাবিটি একবাসা পরে প্রাচীরের দেওয়ালের উপর রেখে দেয়। এই সংক্রান্তে আসামী মিম ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় সাব্বির এর নিকট থেকে মিম এর কথা বলার উক্ত গোপন মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। মিম এর দোষস্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে রের্কড করা হইয়াছে। এই ঘটনার সহিত আরো কোন আসামী জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আসামী সাব্বির কে চারদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটি তদন্ত সমাপ্ত করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযুক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ঠিক আছে না কি

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!