শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২১ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ঝালমুড়ির দোকানে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
Pabnamail24
ঝালমুড়ি বিক্রেতা মুন্না

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট ২০২০) দুপুরে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচড়া মুচি বটতলা বাজার মোড়ে ঝালমুড়ির দোকানে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বখাটে অত্র এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা মুন্না শাহ (৪৫) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। ধর্ষিতা মেয়েটি বাবুলচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেনির ছাত্রী (৮)।

গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার দেওয়া হয়। ধর্ষিতা মেয়েটির বাবা থানায় নারী ও শিশু দমন নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও ভুক্তোভোগীর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিাবর দুপুর ১ টার দিকে মেয়েটি ধর্ষকের দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে গেলে দোকানের ভিতরে ডেকে নিয়ে জোরপুর্বক এই ছোট্ট মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। মেয়েটি চিৎকার দিলে কিছু লোক এগিয়ে এলে ধর্ষক দোকান ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করলে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ধারায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলা নং ৬০/তারিখ ২৮/৮/২০২০।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২৮ বছর আগে ময়মনসিংহ জেলা থেকে সাঁিথয়া থানায় বাড়ি করে জুলমত শাহ। তারই বড় ছেলে মুন্না শাহ ঈশ^রদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচড়া গ্রামের নুরু শাহ’র মেয়েকে বিয়ে করে ঘর জামাই থাকে। সেই সুবাধে ওই গ্রামের মুচি বটতলা মোড়ে একটি ঝালমুড়ির দোকান দেয়। পিঁয়াজি, চপ, সিঙ্গারা, সোলা, ও ঝালমুড়ি বিক্রি করে। মাঝে মধ্যেই এই শিশুটি তার দোকানে ঝালমুড়ি কিনতে আসত। ধীরে ধীরে বখাটে মুন্নার কু-নজরে পরে মেয়েটি। এর আগেও তিনদিন করে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ঝালমুড়ি দেওয়ার কথা বলে একাধিকবার জোরপুর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু মেয়েটি চক্ষুলজ্জার ভয়ে কারো নিকট বিষয়টি বলেনি পরিবার সূত্রে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার প্রধান সাক্ষী ওষুধের দোকানদার ইকবাল হোসেন জানান, আমি মাত্র জোহরের নামাজ পরে দোকানে বসি, সেই অবস্থায় রকিব (স্থানীয় ব্যক্তি) আমাকে বলে ওই ঝালমুড়ির দোকানে গিয়ে দেখে আয় সেখানে কি হয়, সেখানে মনে হয় কোন অবৈধ কার্যকলাপ হচ্ছে। আমি তার দোকানে বিষয়টি দেখার জন্য যাই। দোকানের পাশে গিয়ে মেয়েটির চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। পরে ভিতরে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই, সম্পুর্ণ খোলামেলা অবস্থায় মেয়েটিকে দেখতে পাই। মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারে মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।

তিনি আরো জানান, এই ভাবে আমি পুলিশের কাছেও জবানবন্দি দেওয়া এবং মামলার প্রধান সাক্ষী হওয়ার কারণে আমাকে আসামীপক্ষের লোকেরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমাকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলানো হবে বলে তারা হুমকি দিয়ে আসছে।

মেয়েটির ভাই বলেন, আমার ছোট্ট বোনকে যে এমন ক্ষতি করেছে, তার দৃষ্টানমূলক শাস্তি চাই, যাতে এমন ঘটনা আর কারো ক্ষেত্রে না হয়। সেই জন্য আমি এই অভিযুক্ত ধর্ষক মুন্নার ফাঁসি চাই।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাঃ নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় অভিযুক্ত মুন্নাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!