শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১০ অপরাহ্ন

একই পরিবারের ৩জনসহ দেড় ডজন প্রার্থী এমপি হতে চায়, তবে আসছে চমক

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০
Pabnamail24

উপনির্বাচনের তফসীল ঘোষণার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী আলোচনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই জমে ওঠে চায়ের টেবিল। আলোচনা হয় প্রার্থী নিয়ে, নির্বাচন নিয়ে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া পাবনা-৪ আসনটিতে নৌকার হাল ধরতে ইতিমধ্যে দেড় ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের নেতারা লবিং শুরু করেছেন। কেউ কেউ প্রার্থিতা জানান দিতে পোস্টার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন নির্বাচনী এলাকায়। কেউ কেউ শুধুমাত্র ধান্দাবাজির জন্যেও জানান দিচ্ছেন প্রথীতার কথা। একটু পরিচিতি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা আদায়েল জন্যে।

পাবনা জেলার গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকার দলীয় নেতাকর্মীদের চাওয়া এই আসনটি ত্যাগী রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকুক। দলের অনেক দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা রয়েছেন তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হোক নৌকার টিকিট। পরীক্ষিত ও ত্যাগী রাজনীতিক হাল ধরুক এমনটাই চান নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে পাবনা জেলার শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন পেতে বেশ তৎপর। এ লক্ষ্যে তারা এলাকায় পোস্টার সাঁটানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনীতির মাঠে না থাকলেও হঠাৎ কর্মী-সমর্থক বানিয়ে নিজেদের পক্ষে অনেক কিছু লিখছেন। তাদের এমন প্রচারণায় দলের নেতাকর্মীরাও পড়েছেন ভাবনায়।

এই আসনে আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু পর পর ৫ বার নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন। চলতি বছরের ০২ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর নৌকার হাল ধরছেন কে সে আলোচনা এখন সর্বত্র।
জাতীয় সংসদের ৭১ পাবনা-৪ আসন ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৮ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৬০৬ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩২ জন।
এ আসনে নৌকার হাল ধরতে প্রয়াত সংসদ সদস্য ডিলুর ছেলে ও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গালিবুর রহমান শরীফ, প্রয়াতের স্ত্রী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন নাহার শরীফ, তাঁর মেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া ও তাঁর জামাই পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু মাঠে কাজ করছেন।
তবে, তাদের বিরুদ্ধেও মাঠে রয়েছেন অনেকেই। এই পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল ঈশ্বরদীবাসী। জমি দখল, টেন্ডার বাণিজ্য, বালি মহালের নিয়ন্ত্রন, মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার মতো এমন কোন অভিযোগ নেই, যে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে। তবুও পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক লোক মনোনয়ন চাওয়াটাকে কেন্দ্র করেই এই আসনে এতো নেতার ছড়াছড়ি। উদ্দেশ্য একটাই লাভজনক এই পদটি পেলে সব অপকাজ কারাই সম্ভব হবে বলে এমনটাই মন্তব্য ওই এলাকার ভোটারদের।
এছাড়াও মাঠে রয়েছেন, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম নজরুল ইসলাম রবি, পাবনা জেলা আ’লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, সদ্য আ’লীগে ফেরা পাবনা পৌরসভার মেয়র কামরুল হাসান মিন্টু, আটঘরিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন, জেলা আ’লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌর আ’লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান স্বপন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ, মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল আলিম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী ড. মুসলিমা জাহান ময়না ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য জালাল উদ্দিন তুহিন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলাদলিকে কাজে লাগাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ঈশ্বরদী উপজেলার কয়েক নেতা কয়েক মাস আগে থেকে মাঠে নেমে পড়েছেন, নানা ভাবে প্রচার–প্রচারণা চালাচ্ছেন। গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মনোনয়ন প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ আছে অনেক নেতার। সরাসরি দল করছেন না-এমন অনেকে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
তবে মাঠে নেই অথচ মনোনয়ন পাবেন এমন একজন ক্লীন ইমেজের ব্যাক্তিত্ব সম্পন্ন লোকেও দলের টিকিট নিয়ে আসতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন, সাবেক জেলা জজ, সাবেক দুদক কমিশনার ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। অনেক নেতারাই তার নিকট অভাস পেয়ে ইতিমধ্যেই ধণা দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান শরিফ ডিলু এমপির মৃত্যুতে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনটিকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!