রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১২:০১ পূর্বাহ্ন

রুপপুর প্রকল্পে চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণা, রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
Pabnamail24

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনারগোস্পেট মন্তাজ কোম্পানিতে বিভিন্ন পদে চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারণা করায় প্রতিষ্ঠানটির মানব সম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সজীব খানকে পুলিশে সোপর্দ করেছে ঐ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার বিকেলে প্রকল্পের নিরপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্যদের মাধ্যমে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সজীব খানের বিরুদ্ধে প্রতারিত ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম।

আটক কর্মকর্তা সজীব খান নরসিংদী জেলার ভোলাহাট এলাকার মৃত জুনায়েদ খাঁনের ছেলে। তিনি এনারগোস্পেট মন্তাজ কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ও ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চাকুরী প্রত্যাশীদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, রুপপুর প্রকল্পে কর্মরত রাশিয়ান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএসসি এনারগোস্পেটসমান্তজের মানব সম্পদ ও প্রশাসন ব্যবস্থাপক ও নরসিংদী জেলার ভেলা নগর গ্রামের মৃত জোনায়েদ খানের ছেলে সজীব খান বিভিন্ন সময় ভিভিন্ন লোকের নিকট থেকে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছেন। তারই জের ধরে সজীব খানকে আটক করা হয়েছে।

প্রতারনার স্বীকার ঈশ^রদী পৌরসভার ফতে মোহাম্মদপুর এলাকার ধীরেন্দ্রনাথ কুমার সরকারের ছেলে সৌরভ কুমার সরকার জানান, আমাদের এলাকার রেলওয়ে হাসপাতালের সামনে জয় গুরু টেলিকম নামের একটি মোবাইল সার্ভিসিং এর দোকান ছিল। এই প্রতারক সজীব মাঝে মধ্যেই আমার দোকানে এসে আড্ডা দিত। আড্ডার এক পর্যায়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠলে তাকে রুপপুর প্রকল্পে একটি চাকুরী দেওয়ার অনুরোধ করি। সে তাৎক্ষনিক আমাকে সিভি দিতে বলে। তার কথা মতো আমি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেই।

এরপর সজীব আমার নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে এবং আমাকে আরো লোক এনে দেওয়ার শর্তে রুপপুর প্রকল্পে তিন বছর মেয়াদে চাকুরী দেন। তার কথা মতো আমি পাবনার জহিরপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত প্রামানিকের ছেলে মহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ৬৫ হাজার, দিয়ার শাহাপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মামদুর রহমানের নিকট থেকে ৪০ হাজার, মির্জাপুর গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে মো: রঞ্জুর নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে চাকুরীর দেন। এ ধরনের আরো অনেকের চাকুরী দেন তিনি।

সৌরভ অভিযোগ করে বলেন, টাকা ও সিভি নিয়ে সজীব জানান তাদের তিনবছরের জন্য এনারগোস্পেট কোম্পানিতে নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু যোগদানের কিছুদিন পরই আমাদের কোম্পানি থেকে বের করে দেয়া হয়। তখন, রাশিয়ান প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের মাধ্যমে জানতে পারি এই প্রতিষ্ঠান কাউকে সময় ভিত্তিক নিয়োগ দেয় না। সজীব আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। এ সময় খোঁজ নিয়ে আরো বহু মানুষের সাথে তার প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। পরে বিষয়টি নিয়ে এনারগোস্পেট কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করলে তারা সত্যতা পান এবং তাকে বরখাস্ত করে মঙ্গলবার প্রকল্পের নিরপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে পুলিশে সোর্পদ করেন। আমরা থানায় সজীবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।
লিমন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে করোনাকালীন দুর্যোগময় মুহূর্তে সজীব খান যে ক্ষতি করেছে তা দুঃখজনক। চলতি মাসে প্রায় ৩০-৪০ জনের কাছ থেকে সজীব হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তদন্ত করে সজীবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

পুলিশ আরো জানান, এই কর্মকর্তা কাছে প্রতারিত হয়ে কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক রাশিয়ান কোম্পানি এনারগোস্পেট মন্তাজ ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাসদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান তারা। পরে তাকে প্রকল্প এলাকা থেকে আটক করে রূপপুর পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।
আটক সজীবের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান রুপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম।

এই প্রকল্পে এনারগোস্পেট মন্তাজ এর মতো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপশি নিকিমথ, টেষ্ট রোসেম, অর্গানোগোস্তরায়, রোইনওয়ল্ড, রোডারসহ অনেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার অধিকাংশ বাঙগালী কর্মকর্তা, দোভাষীরা এ ধরনের অপকর্ম কওে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!