শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১০:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

প্রসূতি মাকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন রুপপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত রবিবার, ২ মে, ২০২১
Pabnamail24

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বদলে গেছে পুরো পৃথিবীর চিত্র। কোভিড-১৯ আতঙ্কের কারণে গাছপালা ও বহু প্রাণীর আশ্রয় ধ্বংস করে প্রকৃতিকে কোণঠাসা করেছে যে মানুষ- তারাই এখন অসহায়, নিরুপায় হয়ে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে ঘরে।

এ সময় নবজাতক কন্যা শিশুর জন্ম দিয়ে ক্লিনিকের শয্যায় রক্ত শূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন রুনা খাতুন নামে এক প্রসুতি মা। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়।

প্রিয়জনকে বাঁচাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্তের সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না আপন মানুষগুলো। এমন সময় ঈশ্বরদী থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা এসে পৌঁছায় ক্লিনিকের সামনে। তাদের জানানো হয় (ও নেগেটিব) রক্তের অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখন’ই রক্ত দানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রূপপুর পারমাণবিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম। রোজা রেখেই কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই কালক্ষেপন না করে ওই মাকে রক্ত দান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা।

এসময় পুলিশের এমন অনন্য মানবিকতায় অশ্রুসিক্ত হন উপস্থিত অনেকই। শ্রদ্ধার সাথে সাধুবাদ জানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সেবিকারা।

গৃহবধূর বাবা সোহরাব আলী জানান, শনিবার সকালে বকুলের মোড়ে অবস্থিত শোভন ক্লিনিকে তাঁর মেয়েকে সিজার করা হয়। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।

শোভন ক্লিনিকের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, শনিবার সকালে রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলো। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মূহুর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেত ন।

আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সকালে আমি থানা এলাকায় ছিলাম। এসময় একজন বয়োজোষ্ঠ লোক রক্তের সন্ধান করছিলেন। তাঁর কথা শুনে পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। যাই হোক আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তখন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধনের সক্রিয় সদস্য ছিলাম। রক্ত দিয়ে যদি কারও জীবন বাঁচাতে পারি সেই আনন্দটা আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।

কেননা আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক রক্তদাতা দেশ ও জাতির কাছে একেকজন ‘সুপারহিরো! আমরা বলি, ‘রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা, রক্ত দিয়ে বাঁচাব মানবতা।’ তাই তো বাঁধনের স্লোগান—একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!