শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ন

সড়ক দূর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে পরিবারের সুখ, সুস্থ হতে চান আটঘরিয়ার মামুন

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বুধবার, ৫ মে, ২০২১
Pabnamail24

সড়ক দূর্ঘটনায় মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে চারমাস ধরে শয্যাশায়ী পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর গ্রামের দরিদ্র ইজিবাইক চালক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩০)। সহায় সম্বল বিক্রি করে পঙ্গু হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও, সুস্থ না হওয়ায়, মামুনকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মামুনের অসুস্থতায়, পরিবারের দুবেলা অন্নের সংস্থান হয় না, সেখানে বিদেশে চিকিৎসা অসম্ভব কল্পনা। সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সরকারও সামর্থ্যবান মানুষের সহায়তা চান মামুন।

মামুন জানান, গত ফ্রেব্রæয়ারী মাসে মেহেরপুরে ইজিবাইক চালাতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন তিনি। মেরুদন্ডের জটিল আঘাতের চিকিৎসা করতে রাজশাহী, ঢাকা, চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু তাতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়, বিদেশে উন্নত চিকিৎসায় মামুন ভালো হতে পারেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন ভারতের একটি হাসপাতালে মামুনের চিকিৎসা হলে তার সুস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, সে ব্যয় বহনের সামর্থ্য নেই মামুনের পরিবারের।

মামুন বলেন, আমি পরিবারের বোঝা হয়ে বাঁচতে চাইনা। সুস্থ হয়ে আবারো পরিবারের হাল ধরতে চাই। সরকার ও হৃদয়বান মানুষেরা যদি সহযোগীতা করেন আল্লাহর ইচ্ছায় হয়তো সুস্থ হতে পারবো।

মামুনের বাবা ভ্যানচালক জাহেদ আলী জানান, বয়সের কারণে আগের মত ভ্যান চালাতে পারেন না তিনি। মামুনের আয়েই পরিবারের খরচ চলত। ছেলের চিকিৎসায় বিক্রি করেছেন শেষ সম্বল ভ্যানগাড়ীও বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। আয়ের বিকল্প কোন উৎস নেই। আশেপাশের মানুষ সাহায্য করলে বাড়ির চুলা জ¦লে, নয়তো পরিবার নিয়ে না খেয়েই দিন কাটে তাদের।

জাহেদ আলী আরো বলেন, সামর্থ্যবান মানুষেরা যদি তাদের যাকাতের কিংবা আর্থিক সহায়তার কিছুটা আমাদের দান করেন, তাহলে হয়তো আমার ছেলেটা সুস্থ হয়ে উঠবে।

মামুনের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী খুবই পরিশ্রমী মানুষ। তার আয়ে আমাদের বেশ ভালোভাবেই চলে যেত। কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। অথচ চার মাস ধরে তিনি শয্যাশায়ী। কোন কাজই নিজে নিজে করতে পারেনা, উঠে বসতেও পারেনা। কোন আয় রোজগার নেই। চিকিৎসা দূরের কথা ছোট বাচ্চাদের মুখে খাবারই তুলে দিতে পারিনা।

রুমা আরো বলেন, বাচ্চাদের ক্ষুধার কষ্টে অসহায় স্বামী দিনরাত চোখের পানি ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী তো অনেক মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য তার নিকট আবেদন জানাই।

মামুনের চিকিৎসায় অসহায় পরিবার সমাজের বিত্তবানসহ সকল মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
সামর্থ্যবান মানুষেরা দরিদ্র পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে হয়তো, সুস্থ হয়ে উঠবেন মামুন, আবারো হাসি ফুটবে বৃদ্ধ বাবা, মা আর অবুজ শিশুদের মুখে। মামুনের মোবাইল নম্বর – ০১৭৯৫১৬৪০৩৯।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!