সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে উপনির্বাচনের সভায় বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১৫

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম:
  • প্রকাশিত সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০
Pabnamail24

পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দলীয় প্রতিনিধি সভা শেষে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক হিমেল রানা সহ অন্তত ৫ জন ছুরিকাহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৫ জন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার বিকেলে ঈশ^রদী বাসস্ট্যান্ডে সভা শেষে দলীয় প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়িতে খেতে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। এ সময় আগে খাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবীর খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের সামনেই কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন জেলা যুবদলের সম্পাদক হিমেল রানা ও ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক তসলিম হাসান সুইটের সমর্থকরা। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছুরিকাহত হন জেলা যুবদলের সম্পাদক হিমেল রানা, যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ত্রাণ সম্পাদক রানা মিয়াসহ পাঁচ জন। গুরুতর অব্স্থায় তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তিন জনকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত দশ জন আহত হয়। পরিস্থিতি শান্ত হলে, কর্মসূচী সংক্ষিপ্ত করে ঢাকায় চলে যান বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতারা।

পাবনা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল রানা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলার জন্য আমরা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলাম। হঠাৎ করেই ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান সুইটের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমি সহ যুবদলের নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করে। দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী মহল সরকারের উদ্দেশ্য সফল করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

হামলায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক তসলিম হাসান সুইট বলেন, বিএনপির কিছু সাবেক নেতা ও যুবদলের নেতারা প্রথম থেকেই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন না। এরপরেও, আমরা রাত দিন পরিশ্রম করে মাঠ গুছিয়ে এনেছি। কেন্দ্রিয় নেতাদের বিব্রত করতেই অহেতুক অস্থিরতার সৃষ্টি করা হয়েছে।

তবে, সংঘর্ষের ঘটনা নির্বাচন কেন্দ্রীক নয় দাবী করে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যুবদলের ছেলেদের মধ্যে একটু ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বড় করে দেখার মতো কিছু নয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাসীর উদ্দিন বলেন, খাওয়া দাওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষে মারামারির কথা শুনেছি। কোন পক্ষই আমাদের কাছে অভিযোগ করে নি। তবে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশী নিরপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, রবিবার দুপুরে ঈশ্বরদী বাসস্ট্যান্ডে হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে নির্বাচনী পথসভায় অংশ নেন কেন্দ্রিয় নেতারা। এ সময় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লা আমান, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, মুস্তাফিজুর রহমান বাবুল, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমূখ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!