রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন

করোনাযোদ্ধা ডা. সাহেদ পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচনে গণমানুষের প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
Pabnamail24

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘোরিয়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও এবারের আসন্ন উপনির্বাচনে তিনি নির্বাচনের চেয়ে বেশি মনোযাগী হয়েছেন করোনাযুদ্ধে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে একজন সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলতে তার অনবদ্য পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক, উপস্থাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. সাহেদ ইমরান।

ঈশ্বরদীর পাকশীতে জন্মগ্রহণকারী এই কৃতী চিকিৎসক ডা. সাহেদ ইমরান মনে করেন- এ উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মহামারীতে মানুষের সেবা করাটাই এখন জরুরি। মানবসেবার এ সুযোগকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দিনরাত করোনাযুদ্ধে অবতীর্ণ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন। ডা. সাহেদ বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার কাজ শেষে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। ঈশ্বরদীর এই কৃতীসন্তান এই জাতীয় দুর্যোগে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে শামিল রেখেছেন। সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা প্রদান করে এই চিকিৎসক ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।

বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান ডা. সাহেদ ইমরান। ঈশ্বরদীর পাকশীতে জন্মগ্রহণ করা ডা. সাহেদের বাবা-মা দুজনই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তারা একমাত্র সন্তানকে এখনও শিশুর মতো আগলে রাখতে চান, কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই বৈশ্বিক দুর্যোগে তাদের আদরের সন্তানটি যে করোনাযুদ্ধে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন।

ডা. সাহেদের বাবা এসএম নিজাম উদ্দিন ও মা সাহেদা আরজুমান্দ বানু জানান, তাদের সন্তান এই মহামারীতে আমাদের কাছে না থাকলেও অসুস্থ মানুষের পাশে থেকে সেবা দিতে পারছে- এটি অনেক বড় কাজ। আপনারা দোয়া করবেন যেন সে সুস্থ থেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারে।

ডা. সাহেদ ইমরান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই বৈশ্বিক দুর্যোগে করোনা রোগীদের সেবা প্রদান করাটাই এখন প্রধান দায়িত্ব হিসেবে পালন করতে হচ্ছে।

করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করতে নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও করোনা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা করার বিষয়ে ডা. সাহেদ বলেন, চিকিৎসক হিসেবে প্রথম দায়িত্ব রোগীর সেবা করা। জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ দুঃসময়ে চিকিৎসক হিসেবে নিজের জীবনের চেয়ে রোগীর জীবনের মূল্য আমার কাছে অনেক বেশি। অজানা অচেনা শত্রু হিসেবে করোনা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এ মহামারীতে চিকিৎসকের জীবনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তা জেনেও দেশের চিকিৎসকরা জীবনবাজি রেখে প্রতিনিয়ত করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে শতাধিক চিকিৎসক অকালে মৃত্যুবরণও করেছেন।

ডা. সাহেদ বলেন, করোনাকালে আমাদের মনে রাখতে হবে করোনা আমাদের জীবনে থেকেই যাচ্ছে। এখন নব স্বাভাবিকত্ব অথবা নিউ নরমাল লাইফ মেনে নিয়েই আমাদের জীবন পরিচালিত করতে হবে। আমাদের নতুন স্বাভাবিক জীবন চালিত করতে হবে, তাই নিজেকেই করোনা থেকে সুরক্ষিত রেখে চলার কোনো বিকল্প নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. সাহেদ বলেন, যে আদর্শ নিয়ে বড় হয়েছি, আমি বিশ্বাস করি মানুষ যদি সামাজকে নিয়ে বেড়ে ওঠে তাহলে অচলাবস্থা থেকে সামাজিক ব্যবস্থাকে সচল অবস্থায় এগিয়ে নেয়া সম্ভব। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে সামাজিকভাবে নেতৃত্ব দেয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। এখন সময় এসেছে সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঈশ্বরদী- আটঘরিয়ার মানুষের জন্য কিছু করার। ডা. সাহেদ বলেন, করোনা মহামারীর এ সময়ে ৩৫০০ জন রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলাই যথেষ্ট নয়। সংখ্যায় আবদ্ধ না থেকে আমরা ভয়কে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

বিগত সময়ের কথা উল্লেখ করে ডা. সাহেদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন পেশাজীবী সংগঠক হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। ইচ্ছা ছিল সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার। পেশাদার মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই এমন ভাবনার আশা পোষণ করেছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা যেমন বলেছেন করোনা যেমন অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় বাধা তেমনি মানুষের সেবা করারও এটি বড় সুযোগ। তাই প্রধানমন্ত্রীর এ কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি করোনাকালীন এই বৈশ্বিক দুর্যোগে মানুষের পাশেই থাকতে চাই। নির্বাচনে অংশ নিয়ে এখন মানুষের সেবা করার আরও একটি বড় সুযোগ এসেছে, আমি সে সুযোগকে মানুষের জন্য কাজে লাগাতে চাই। একজন রোগী যখন অসহায় হয়ে পড়ে তখন সেই অসহায় মানুষটিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলার মধ্যে যে আনন্দ, একজন চিকিৎসক হিসেবে এবং একজন মানুষ হিসেবে এটি আমার জন্য অনেক আনন্দদায়ক।

ডা. সাহেদ বলেন, আমরা করোনাকে একদিন জয় করবই, তখন যদি সুযোগ আসে তবে এই ঈশ্বরদীকে আমি বাংলাদেশের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত, মানবিক, জ্ঞানভিত্তিক, আলোকিত, উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করব। ঈশ্বরদীতে মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা, জনসাধারণের জন্য চিকিৎসাসেবাকে আধুনিক ও মানসম্মত করা, ঈশ্বরদী হাসপাতালের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ, ঈশ্বরদীর রাস্তা-ঘাটগুলোকে নতুন করে সংস্কার করা, বেকারত্ব ঘুচিয়ে তরুণ প্রজন্মকে তাদের মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, জ্ঞানভিত্তিক এলাকা গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুর নামে একটি গণগ্রন্থাগার নির্মাণ করা, এলাকার দৃশ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান যেমন- রেলওয়ে গেটে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদীতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করাটা এখন জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন তরুণ প্রজন্মের চিন্তাধারা লালনকারী ডা. সাহেদ ইমরান।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!