শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন পাবনায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপেলক্ষ্যে মর্জিনা লতিফ ট্রাস্টের বস্ত্র বিতরণ একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক রণেশ মৈত্রের শেষকৃত্য সম্পন্ন পাবনায় ভাইয়ের দায়ের কোপে প্রাণ গেল ইসলামী আন্দোলনের নেতার ঈশ্বরদীতে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আবারও ডেঙ্গু আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু ফরিদপুরে মন্দিরের জায়গা দখল করে মেয়রের কোটি টাকার বাণিজ্য মেলা! উৎসবমুখর পরিবেশে পাবিপ্রবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন প্রতারণার অভিযোগ, সুজানগরে আ. লীগের নেতা উজ্জ্বলকে অবরুদ্ধ করে টাকা ফেরতের দাবী ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না!

আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্বে সুজানগরে সাবেক পুলিশ সদস্য খুন!

পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডেস্ক
  • প্রকাশিত সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২
Pabnamail24

পাবনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে এক সাবেক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। সোমবার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর আলম (৬৩)। সে ভবানীপুর গ্রামের মৃত হাছেনের ছেলে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় নিহতের ভাই মতি খন্দকার, একই এলাকার আরফান মোল্লার ছেলে আয়েনউদ্দিন ও নজিমউদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহিমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য তার ভাই মতিনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের রেললাইনে বসে ছিলেন। এ সময় রেললাইনের দক্ষিণ পাশ থেকে শতাধিক লোকজন হাসুয়া, বল্লম, টেঁটা ও চাপাতিসহ অতর্কিত হামলা করে। তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতের ছেলে যুবায়ের হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অবসর গ্রহণের পর এলাকার জুয়া খেলা ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। বাবার কাছ থেকে তারা নতুন বাড়ি করা বাবদ ১৫-২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমাদের বাড়ির সামনে এলাকার কিছু মানুষ জুয়া খেলতো। বিষয়টি পুলিশকে জানালে আমার বাবাকে হত্যার হুমকি দেয়। গতকালও তারা মিটিং করে। এর আগেও কয়েকবার তারা হত্যার জন্য আক্রমণ করেছিল। সেই বিরোধের জেরেই সোমবার আশরাফ ও রবিউল মাস্টারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা একযোগে বাড়িতে ট্যাটা, বররা, হাসুয়াসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এদিকে, নিহত জাহাঙ্গীর আলমকে নিজেদের কর্মী জানিয়ে সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল ওহাবের নির্দেশে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তাঁতীবন্দ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল খান।
তিনি বলেন, আব্দুল ওহাব কয়েকদিন আগে এলাকায় এসে বলেছেন, থানা পুলিশ আমার আয়ত্তে। যা করা দরকার কর। তার ইন্ধনে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।
সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িতরা দশ বার দিন আগে আব্দুল ওহাবের মাধ্যমে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে আব্দুল ওহাবের নির্দেশে হামলা হয়েছে। তারা প্রায়শই জেলা পুলিশের সাথে সখ্যতার কথা বলে এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। আশা করি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুজানগর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুপক্ষই শাহীনুজ্জামান শাহীনের সমর্থক। নারী ঘটিত একটি মামলায় তাদের পূর্ব বিরোধ ছিলো। শাহীনের একতরফা ভূমিকায় অতিষ্ঠ হয়ে কিছু মানুষ আমার সহযোগিতা চায়। এই হত্যাকান্ডে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। পুলিশকে প্রভাবিত করার অভিযোগও সত্য নয়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। হামলায় জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন এবং মতি খন্দকারসহ অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মতি খন্দকারের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।’পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!