বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সামগ্রী ক্রয়ে দূর্নীতি!

পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডেস্ক
  • প্রকাশিত রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২
Pabnamail24

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ ওমর ফারুক মীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে বাজার দরের চেয়ে উচ্চ মূল্যে নিম্নমানের মালামাল ক্রয় ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে মালামাল সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাখিলকৃত বিলের কপি সংযুক্ত করে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সাদেক হোসেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশ করে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সহকারী পরিচালক কার্যাদেশ প্রদান করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সাদেক হোসেন জানান, সম্প্রতি হাসপাতালে ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে অফিস কক্ষের সামনে সদ্য কেনা বর্জ্য ফেলার প্লাস্টিক বক্স রাখা আছে। বক্সগুলোর বিষয়ে কয়েকজন সাবেক সহকর্মীর সাথে আলাপ করে তিনি জানতে পারেন প্রতিটি বক্স কেনা হয়েছে ৫৭৯০ টাকায়। সাধারণত এ ধরণের বক্স বাজারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।
সাদেক হোসেন আরো বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় করে বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশী মূল্যে এসব পণ্য কেন নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্মচারীরা বলেন, এডি স্যার জানেন। পরে আমি সহকারী পরিচালক ডাঃ ওমর ফারুক মীরকে বেশি দামে পণ্য ক্রয় করা হচ্ছে জানালে তিনি আমাকে এ বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করেন। মালামাল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ফল ভালো হবেনা বলেও জানান।
সাদেক হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরো খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ কিংবা নোটিশ বোর্ডে না টানিয়েই ঢাকার এস.টি.এম. কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে গত ১১ জুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করেও দরপত্র বিজ্ঞপ্তির কোন কপি পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগ সাজশে সহকারী পরিচালক এসব নিম্নমানের মালামাল উচ্চ মূল্যে কিনেছেন, যা দাখিলকৃত বিলে প্রমাণিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুদকে আবেদন করেছি।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান মালামাল ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এস.টি.এম কর্পোরেশন যে দর দেয় তাই অনুমোদন পায়। বিষয়টি সন্দেহজনক। পণ্যমূল্য বাজার দরের চেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্ট্যান্ডার্ড রেটের মধ্যে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক ঠিকাদার জানান, জুন মাস সামনে রেখে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মালামাল কেনা হয়েছে। দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়নি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এস.টি.এম কর্পোরেশনকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড রেটে মালামাল কেনা হয়েছে বলা হলেও, পণ্যের কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত না থাকায় এখানে তা বিবেচ্য হওয়ার কথা নয়।
এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রধান সহকারী সনজিৎ কুমার দাসের নিকট জানতে চাইলে কোন পত্রিকায় কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিলো সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সহকারী পরিচালক স্যার জানেন।
তবে, মালামাল ক্রয়ে কোন দূর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেছেন পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ ওমর ফারুক মীর। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই দরপত্র আহবান ও কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। মূল্যায়ন কমিটি নীতিমালা মেনে যাচাই বাছাই করে কার্যাদেশ দিয়েছে। এখানে দূর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ নেই। জাতীয় পত্রিকায় দরপত্র আহবান ও নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ সুবিধা না পেয়ে অসত্য অভিযোগ করছেন। তবে, অফিসিয়াল গোপনীয় বিষয় বলে তিনি পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি দেখাতে রাজি হননি।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!