মঙ্গলবার, ০৬ জুন ২০২৩, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অফিস অটোমেশন সিষ্টেমের উদ্বোধন, কাগজবিহীন অফিস হতে চলেছে পাবিপ্রবি বঙ্গবন্ধুর ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রাপ্তির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে পাবিপ্রবিতে আলোচনা সভা পাবিপ্রবিতে প্রথমবর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার সকল আয়োজন সম্পন্ন আন-নাসর রমাদান কুইজ ও কর্জে হাসানা কার্যক্রম শুরু পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নতুন বর্ষবরণ রূপপুর প্রকল্পের গাড়ি চালক সম্রাট হত্যা মামলার মূলহোতা মমিন গ্রেফতার নিখোঁজের দুইদিন পর রূপপুর প্রকল্পের গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার বাউয়েট এ, “সরকারী খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত নিখোঁজের দুইদিন পর যমুনা নদী থেকে কিশোরের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার চরতারাপুরে বালু মহলে পুলিশের ওপর চেয়ারম্যানের লোকজনের হামলা, সরঞ্জাম জব্দ

মাশুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত Thursday, 11 August, 2022
Pabnamail24

ভারতে বসবাসকারী শিক্ষক বিশ^নাথ দত্তের সাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলন কান্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে পাবনার বেড়া উপজেলার মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কে.জে.বি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।

অভিযোগেরে স্বপক্ষে প্রমাণক তথ্য ও কাগজপত্রও দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে কাগজ পত্র জালিয়াতি করে ব্যাকডেটে শিক্ষক নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কে.জে.বি ডিগ্রি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনজন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক আব্দুস সাত্তার উচ্চ মাধ্যমিকের সহকারী অধ্যাপক, নাছরিন নাহার ডিগ্রি স্তরের (২য় শিক্ষক) প্রভাষক এবং মীর শামসুদ্দোহা তরুন ডিগ্রি স্তরের (৩য় শিক্ষক) প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এখন পর্যন্ত ডিগ্রি স্তরের শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত হয়নি।

কাগজপত্র ঘেটে ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার অবসরে যান। সে শুন্য পদে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ডিগ্রি স্তরে নিয়োগ প্রাপ্ত নাছরিন নাহারকে রেজুলেশনের মাধ্যমে ১ম শিক্ষক হিসেবে সমন্বয় করা হয়। তখন ডিগ্রি স্তরের ৩য় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন মীর শামসুদ্দোহা তরুণ।
মীর শামসুদ্দোহা তরুণ অভিযোগ করে বলেন, আব্দুস সাত্তার অবসরে গেলে তরুণ ৩য় শিক্ষক থেকে নাছরিন নাহারের স্থলে ২য় শিক্ষক হিসেবে সমন্বয়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন। কিন্তু অধ্যক্ষ এর বিনিময়ে তরুণের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবী করেন। তরুণ তা দিতে এতে অপারগতা প্রকাশ করলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন। অর্থের বিনিময়ে সমন্বয় করতে রাজি না হলে তাকে চাকরি ছেড়ে দেবার নির্দেশ দেন।

মীর শামসুদ্দোহা তরুন আরও বলেন, আপোসে চাকরী না ছাড়লে আমাকে বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে দিয়ে কলেজ ছাড়তে বাধ্য করবেন বলে হুমকি দিতে থাকেন। আমার পরিবারের অর্থের সংস্থান না থাকায় এবং স্থানীয়ভাবে সাপোর্ট দেবার কোন লোকজন না থাকায় ২০২০ সালের শুরুতে আমি চাকরী ছাড়তে বাধ্য হই।

এদিকে, মীর শামসুদ্দোহা তরুন চাকরী থেকে অব্যহতি নিলে, নিয়ম অনুযায়ী এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে চাহিদা দিয়ে সরকারিভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেবার কথা। কারণ, ২০১৬ সালের পর স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেবার ক্ষমতা হারায়। কোন শিক্ষকের পদ শূন্য হলে নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা পাঠাতে হয় এনটিআরসিএ’র কাছে। সে মোতাবেক গত ২০/০১/২০২০ তারিখে কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়সহ মোট ৫টি বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা প্রদান করা হয়, যার কপি এ প্রতিনিধির হাতে রয়েছে। কিন্তু, পরবর্তীতে ব্যবস্থাপনা বিষয়ের একজন শিক্ষকের সন্ধান পাওয়ার পরে ওই চাহিদা অনলাইন থেকে বাতিল করে ব্যাক ডেটে (পূর্বের তারিখে) মীর শামসুদ্দোহা তরুনের নাম সরিয়ে শামসুন নাহার নামের একজনকে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি স্তরের ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এ সময় তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল গণির সীল-স্বাক্ষর জালও করা হয়েছে।
শামসুদ্দোহা তরুণ আরো জানান, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করায় ৭/১০/২০১৫ তারিখে তরুণকে কলেজ থেকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং তিনি ৮/১০/২০১৫ তারিখে যথারীতি যোগদান করে নিয়মিত কলেজে পাঠদান করেন এবং হাজিরা খাতায়ও নিয়মিত স্বাক্ষর করেন। তার জায়গায় এনটিআরসিএ ছাড়া অন্য কোনভাবে শিক্ষক নিয়োগ দেবার কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুল গণির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেউ চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলেও তার স্থানে অন্য কাউকে নিয়োগ দেবার সুযোগ নাই। বর্তমানে নিয়োগ হচ্ছে সরকারিভাবে। তিনি আরও বলেন, আমি অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালীন শামসুন্নাহার নামের কাউকে ব্যবস্থাপনা বিভাগে নিয়োগ দিয়েছি বলে আমার মনে পড়ছে না।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, কলেজে আমি একক কোন সিদ্ধান্ত নেই নি। যা কিছু হয়েছে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে হয়েছে। এর বেশী আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি, গত পাঁচ বছর যাবত ভারতে অবস্থানকারী মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিশ^নাথ দত্তের নিয়মিত বেতন বইয়ে সাক্ষর ও বেতন উত্তোলন কান্ডে অন্যতম সহযোগী হিসেবে আলোচনায় আসেন ঐ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছালাম বিশ্বাস। দেশ রূপান্তরে এ নিয়ে সংবা প্রকাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অমান্য করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ হয় আব্দুস সালাম বিশ^াসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্তে, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. সবুর আলী ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে কমিটি।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!