পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধ দোকানপাট ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাস্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়াও যত্রতত্র ছোট-বড় গাড়ি, রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে রাখার কারণে এ যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে বেড়া সিএন্ডবি করমজা চতুর হাটের সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার এ যানজট ভয়াবহ রুপ নেয়।
পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, বেড়া বাসস্ট্যান্ডের পাশেই রয়েছে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পশু ও পাইকারি সবজি বিক্রির হাট। এই হাটটি করমজা চতুর হাট নামে পরিচিত। সবজির হাট প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মহাসড়ক দখল করে বসে যায়। অন্যদিকে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এখানে হাটও বসে। এর মধ্যে মঙ্গলবারে বসে পশুর হাট।
পাইকারি সবজির হাটের কারণে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এমনিতেই যানজট লেগে থাকে। আর হাটের দিন অর্থাৎ শনি ও মঙ্গলবার এলে যানজট পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সপ্তাহের এই দুদিন বাসস্ট্যান্ডের দুদিকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। যানবাহনগুলোকে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকতে হয় বলে যাত্রী ও যানবাহনের শ্রমিকদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
পরিবহনশ্রমিকেরা জানান, করমজা হাটটি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হলেও হাটে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ হাটুরেই চান সেখানে না বসে মহাসড়কের সঙ্গে বসতে। এতে মহাসড়ক দখল করে পণ্য বেচাকেনায়ও যানবাহনে পণ্য ওঠা-নামা করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর চেয়েও বড় সমস্যা হলো হাটের প্রবেশমুখে মহাসড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকানপাট। অবৈধ এমন দোকানপাট বাসস্ট্যান্ডের অন্যান্য অংশেও বিস্তৃত হতে শুরু করেছে।
এদিকে বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব দিক জুড়ে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এমনকি এই স্থানে একেবারে মহাসড়কের ওপরে সারি সারি সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এই স্থানসহ অবৈধ সিএনজিস্ট্যান্ডে সব সময়ই শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এগুলোর সঙ্গে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান এবং ছোট-বড় গাড়ি। এগুলোর জন্যও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
পরিবহনশ্রমিকেরা জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গত ১০ বছরে অন্তত পাঁচবার অভিযান চালিয়ে বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার অবৈধ দোকানপাট ও সিএনজিস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করেছে। উচ্ছেদের পর বেশ কয়েক মাস এই এলাকা যানজটমুক্ত থেকেছে। কিন্তু এর পর আবারও আগের মতোই সবকিছু দখল হয়ে গেছে।
বছর দেড়েক আগে বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সওজ অভিযান চালিয়ে শতাধিক দোকানপাটসহ সিএনজিস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে যানজটমুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু নজরদারির অভাবে ওইসব জায়গা আবারও দখল হয়ে গেছে। সিএনজিস্ট্যান্ডও একই জায়গায় আগের চেয়ে বরং বিস্তৃত হয়ে ফিরে এসেছে। ফলে যানজটও বেড়েছে আগের চেয়ে আরও বেশি।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে হাটের যানজটে আটকে থাকা ডিস্টিক্ট ট্রাকচালক ইব্রাহিম বলেন, ‘ প্রায় ্এক ঘন্টা এই জায়গায় আটকে আছি। আরও কতক্ষণ থাকা লাগবি কিডা জানে?’ এখানে প্রতিদিনই জাম লেগেই থাকে।
পাবনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. রইজউদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানজট হচ্ছে। হাটবারে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এতে যাত্রীরা যেমন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তেমনি আমাদের অনেক বাসের ট্রিপও মিস হয়ে যাচ্ছে। যানজট নিরসনে সওজের উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।’
সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মনসুর আহমেদ বলেন, ‘শুধু বেড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকাই নয়, বেদখল হওয়া আমাদের সব জায়গাই উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি। জায়গাগুলো যাতে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত থাকে সে ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টি থাকবে।
Leave a Reply