বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন

ফরিদপুরে অবৈধ সোঁতি জালের বাঁধ স্থাপনায় দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনামেইল টোয়েন্টিফোর ডটকম
  • প্রকাশিত রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১
Pabnamail24
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খাগড়বাড়িয়া ঘেচুয়া ক্যানালে (জোলা) অবৈধ সোঁতি জালের বাঁধ স্থাপন করে অবাধে মাছ নিধন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। ফলে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে পাকা আমন ধান কাটা ও মৌসুমী ফসল চাষবাদ নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধ সোঁতি জাল দিয়ে মৎস নিধনে মেতে উঠেছে কতিপয় প্রভাবশালীরা। বাঁধ স্থাপনের ফলে ব্যাহত হচ্ছে এখানকার কৃষিখাত। সময়মতো এগুলো অপসারণ করা না হলে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। অপরদিকে এই সোঁতি জাল দেওয়া নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
জানা যায়, ফরিদপুর উপজেলার ছেরিকাটা মাথা থেকে চিকনাই নদী পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল রয়েছে। এ খাল দিয়ে বর্ষা শেষে ৫/৬ টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়।
জানা গেছে, ফরিদপুর উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী চাটমোহর উপজেলার বিল রুহুল ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিল থেকে পানি নামার সময় প্রতিবছরের মতো এবারও খাগড়বাড়িয়া ঘেচুয়া জোলার মধ্যে ৩টি স্থানে সোঁতি বাঁধ স্থাপন করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। জোলার উভয় তীরে বাঁশ, বাঁশের তৈরি চাটাই, নেট জাল ও পলিথিনের সাহায্যে বাঁধ দিয়ে সোঁতি জাল স্থাপন করা হয়েছে। এ জোলাতে আরো সোঁতি বাঁধ স্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই।
খাগড়বাড়িয়া গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বছর তারা কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমার্ধে রবি ফসল বিশেষ করে গম, সরিষা, রাই, রসুনসহ আগাম জাতের ভুট্টা ও পেঁয়াজ আবাদ করে থাকেন। এ বছর পানি নামতে বিলম্ব হওয়ায় এখন পর্যন্ত জমির পাকা আমন ধান কাটতে পারছি না এবং জমি প্রস্তুত করতে পারেননি।
তারা আরো জানান, প্রভাবশালীরা বাঁশের বেড়া দিয়ে অবৈধ সোঁতি জাল পেতে মাছ শিকার করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিল থেকে বন্যার পানি সময়মতো নামতে না পারায় তাদের জমিতে পাকা আমন ধান কাটতে এবং মৌসুমী ফসল চাষাবাদ করতে পারছেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন ঘেচুয়া স্লুইচ গেটের পাহারাদার গাজী উর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোড়ের অফিস সহকারি মোশারফ হোসেনের যোগসাজসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারকে নাম মাত্র টাকা দিয়ে ইজারা নেন। পরবর্তীতে তারা এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরে স্লুইচ গেটের সামনে ৩টি এবং চিকনাই নদীতে ৭টি সোঁতি জাল স্থাপন করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
অভিযুক্ত গেটের পাহারাদার গাজী উর রহমান ও পানি উন্নয়ন বোড়ের অফিস সহকারি মোশারফ হোসেন অভিযোগটি ভিত্তিহীন দাবি করে তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বদনাম ছাড়াচ্ছেন। তারা আরো বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সোঁতি জাল দ্রুত অপসারণের জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, বিলের পানি স্বাভাবিক প্রবাহের পথে কেউ বাধ বা পানি আটকে কৃষি জমির চাষাবাদে বাধাগ্রস্থ করতে পারবেন না। যদি কেউ করে তাহলে তা সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাসুদ রানা বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, স্লুইস গেটের সামনে কোনো সোঁতি জালের বিষয়ে জানায়নি । তবে পানি দ্রুত না নামার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ঘেচুয়া স্লুইচগেট এলাকায় একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সোঁতি জাল অপসারণ করা হয়েছিল। আবারো অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোঁতি জালের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জেসমিন আরা তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

শেয়ার করুন

বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!